ঘরের ছাদ ভেদ করে পড়া উল্কায় মিলল এলিয়েনের সংকেত
সাধারণ একটি বাড়ির শোওয়ার ঘরে আছড়ে পড়েছিল উল্কাপিণ্ড। তার ভিতরের রসায়ন পৌঁছে দিল পৃথিবী তৈরির সময়ের ইতিহাসে।
দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ বিকট শব্দ। একটি বাড়ির ছাদ ভেদ করে সোজা শোওয়ার ঘরে এসে পড়ল মহাকাশ থেকে ছুটে আসা একখণ্ড পাথর। ঘরের ছাদে তৈরি হল গর্ত, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল কালো পাথরের টুকরো ও ধুলো। সঙ্গে পাওয়া গেল অদ্ভুত সালফারের মত গন্ধ।
ঘটনাটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের। সেই সময় ঘটনাটি যতটা চমক তৈরি করেছিল, ২ বছর পর সেই পাথরই বিজ্ঞানীদের সামনে নিয়ে এল আরও বড় রহস্য।
পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, উল্কাপিণ্ডটির মধ্যে রয়েছে প্রাচীন লবণাক্ত তরলের চিহ্ন, নানাধরনের জৈব যৌগ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড। অর্থাৎ যে রাসায়নিক উপাদানগুলি পৃথিবীতে প্রাণ তৈরির প্রাথমিক উপকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত, তারই কিছু নমুনা লুকিয়ে ছিল ওই মহাজাগতিক পাথরের ভিতর।
তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এর অর্থ এই নয় যে উল্কাটির মধ্যে কোনও প্রাণ ছিল। বরং গবেষণাটি দেখাচ্ছে, প্রাণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জটিল জৈব রাসায়নিক উপাদান মহাকাশের গ্রহাণুতে তৈরি হয়ে থাকতে পারে এবং এমন পাথরের মাধ্যমে প্রাচীন পৃথিবীতে পৌঁছেও থাকতে পারে।
দিনের আলোয় আকাশ পেরিয়ে এসেছিল পাথরটি। উল্কাটি পৃথিবীতে পড়ার আগেই তার যাত্রা নজরে এসেছিল। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দিনের আলোয় নিউ ইয়র্কের আকাশে একটি উজ্জ্বল উল্কা দেখা যায়।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় মহাজাগতিক পাথরটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ হাজার মাইল, অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ১৪.৪ কিলোমিটার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যের মানুষ উল্কাপাতের সেই আলো দেখতে পেয়েছিলেন। তারই একটি বড় অংশ গিয়ে পড়ে নিউ জার্সির হিলসবোরোর ওই বাড়িতে।
পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি ঠিক কীভাবে হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। একটি দীর্ঘদিনের ধারনা হল, পৃথিবী তৈরি হওয়ার পর অসংখ্য গ্রহাণু ও উল্কা এখানে আছড়ে পড়েছিল। সেই পাথরগুলির সঙ্গে পৃথিবীতে এসে থাকতে পারে জল, কার্বন সমৃদ্ধ জৈব অণু, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং আরও নানা যৌগ।












