আশ্চর্য রক্ষা, উত্তাল সমুদ্রে ভাঙা নৌকার কাঠের টুকরোয় বসে কয়েকদিন কাটাল এক কিশোর
সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য পাড়ি দিয়েছিল ৩ ভাই। কিন্তু উত্তাল সমুদ্রে কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর দেখা মিলল এক কিশোরের।
১৮ ফুটের একটি মাছ ধরার নৌকা। সেই নৌকায় চেপেই ৩ ভাই মিলে পাড়ি দেয় উত্তাল সমুদ্রে। ঠিক ছিল ২ দিন পর তারা ফিরে আসবে। সঙ্গে আনবে অনেক মাছ। কিন্তু ২ দিন পার করেও তারা না ফেরায় উপকূলরক্ষীরা খোঁজ শুরু করেন।
অবশেষে তার ২ দিন পর আকাশপথে খোঁজ চালানোর সময় সমুদ্রের মাঝে একটি কাঠের পাটাতনের ওপর এক কিশোরকে বসে থাকতে দেখা যায়। পাটাতনটি সমুদ্রে ভাসছিল। তার ওপরই বসেছিল কিশোর।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই কিশোর জানায় কি ঘটেছিল। সে জানায় উত্তাল সমুদ্রে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়। ভেঙে যায় নৌকার অংশ। উল্টে গেলে তারা ৩ জনই জলে পড়ে যায়।
তার সঙ্গে তার দাদা ও তুতোভাই ছিল। একজন জলে ডুবে যায়। অন্য ভাই ও সে কোনওক্রমে উল্টে যাওয়া নৌকার ভাঙা পাটাতনের ওপর চড়ে বসে।
ওই উত্তাল সমুদ্রে একটা কাঠের টুকরো তাদের রক্ষা করতে পারবেনা এটা ভেবে সাঁতরে কোনও একটা সমুদ্রতীরে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নেয় বেঁচে যাওয়া কিশোরের তুতোভাই।
জলে সাঁতার কাটতে থাকে সে। কিন্তু কতক্ষণই বা সাঁতার কাটা সম্ভব। ফলে একটা সময় সেও ডুবে যায়। কিশোর হাল ছাড়েনি। কেউ কোথাও নেই। অকূল সমুদ্রের মাঝে একটা কাঠের টুকরোর ভরসায় ভাসছে সে। কীভাবে কাউকে খবর দেবে তাও জানেনা। কিন্তু হাল না ছেড়ে ভাসতে থাকে সে।
বসে থাকে পাটাতনের ওপর। তাতেই রক্ষা পেল তার জীবন। অবশেষে তার দেখা পেয়ে তাকে একটি জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে আলাস্কার কাছে বেরিং সাগরে। প্রবল ঠান্ডা জলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে ৩ ভাই পাড়ি দিয়েছিল সেন্ট লরেন্স দ্বীপ থেকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।











