কার মাথায় কী চলছে, এবার লাইভ দেখবেন বিজ্ঞানীরা
নিজের চৌহদ্দির মধ্যেই ঘুরবে প্রাণি। মাথার ভেতর কী চলছে সেই ব্রেনওয়েভ ধরা পড়বে ছোট্ট যন্ত্রে। মাসের পর মাস টানা চলবে নজরদারি।
ল্যাবরেটরির ৪ দেওয়ালের মধ্যে নয়, এবার জঙ্গলে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ানো প্রাণির মস্তিষ্কে ঠিক কী ঘটছে, তা সরাসরি রেকর্ড করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকেরা তৈরি করেছেন ডব্লিউআইএলডি বা ওয়াইল্ড নামে এক ক্ষুদ্র তারবিহীন মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ডকারী যন্ত্র। যন্ত্রটির ওজন একটি ছোট কয়েনেরও কম।
এই অত্যন্ত হালকা যন্ত্র প্রাণির মাথায় বসানো থাকলেও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরায় খুব বেশি বাধা দেয় না। ফলে প্রাণি নিজের বাসস্থানে খাবার খোঁজা, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা এলাকা চিনে চলার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরন কীভাবে সক্রিয় হচ্ছে, তা দীর্ঘ সময় ধরে রেকর্ড করা সম্ভব।
শুধু ব্রেনওয়েভ নয়, একইসঙ্গে চলাফেরা, গলার আওয়াজ এবং চোখের নড়াচড়াও ধরা যায় এই যন্ত্র ব্যবহার করে। গবেষকদের দাবি, যন্ত্রটি একটানা কয়েক মাস পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
সাধারণ উন্মুক্ত পরিবেশে ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই মস্তিষ্কের বিশেষ প্লেস সেলের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষ প্রাণিকে কোনও জায়গার অবস্থান মনে রাখতে সাহায্য করে। আশ্চর্যের বিষয়, খোলা প্রকৃতিতে এই কার্যকলাপের কিছু নমুনা পরীক্ষাগারে গবেষণার তুলনায় আলাদা দেখা গেছে।
এখন ওয়াইল্ড যন্ত্রটিকে পাখি, বাদুড় এবং বাঁদরদের উপরও ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। গবেষকদের আশা, প্রাণিরা বাস্তব পরিবেশে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, পথ খুঁজে নেয়, বিপদ এড়ায় বা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার অনেক অজানা রহস্য এবার মস্তিষ্কের লাইভ কার্যকলাপ থেকে বোঝা সম্ভব হবে।
এতে বন্দি অবস্থায় থাকা প্রাণিদের আচরণ আর প্রকৃতির মাঝে বিচরণ করা প্রাণিদের আচরণের পার্থক্যও আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়তে পারে। অর্থাৎ, বন্যপ্রাণি স্নায়ুবিজ্ঞানে খুলে যেতে পারে সম্পূর্ণ নতুন এক জানালা।











