সমুদ্রের ২ মাইল নিচে এলিয়েন, প্রথমবার ক্যামেরায় ধরা পড়ল রহস্যময় প্রাণি
সমুদ্রের ২ মাইল গভীরে প্রথমবার জীবন্ত অবস্থায় ধরা পড়ল রহস্যময় প্রাণি। যার ২১ ফুট লম্বা শুঁড় বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
সমুদ্রের প্রায় ২ মাইল নিচে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছয় না বললেই চলে। আর সেই গভীর সমুদ্রেই হঠাৎ ক্যামেরার সামনে ভেসে উঠল এমন এক প্রাণি যাকে প্রথম দেখায় কোনও কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার এলিয়েন বলে মনে হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি উপকূলের গভীর সমুদ্রে দূর-নিয়ন্ত্রিত যান বা আরওভি দিয়ে জরিপ চালাচ্ছিলেন গবেষকেরা। সেই সময়ই ক্যামেরায় ধরা পড়ে অত্যন্ত বিরল বিগফিন স্কুইড। যার বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনাপিনা।
গবেষকদের দাবি, উত্তর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জীবন্ত বিগফিন স্কুইডের এটিই প্রথম নথিভুক্ত হওয়া পর্যবেক্ষণ। অর্থাৎ এই এলাকায় প্রাণিটির উপস্থিতির প্রমাণ আগে পাওয়া গেলেও, জীবন্ত অবস্থায় ক্যামেরায় তাকে এভাবে দেখা যায়নি।
বিগফিন স্কুইডের সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য তার বিশাল পাখনা এবং অবিশ্বাস্য রকম লম্বা হাত ও শুঁড়। কিছু বিগফিন স্কুইডের শরীর থেকে শুঁড়ের শেষ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ২১ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। গভীর জলে তাদের সেই সরু লম্বা বাহুগুলি প্রায় সোজা নিচের দিকে ঝুলতে থাকে। যা প্রাণিটিকে আরও রহস্যময় চেহারা দেয়।
কিন্তু এত বড় প্রাণি গভীর সমুদ্রে ঠিক কীভাবে শিকার ধরে? তারা কী খায়? কীভাবে প্রজনন করে? এমনকি তাদের সম্পূর্ণ জীবনচক্রই বা কেমন, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।
মন্টেরি বে অ্যাকোয়ারিয়াম রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং এনওএএ মন্টেরি বে ন্যাশনাল মেরিন স্যাংচুয়ারির এই পর্যবেক্ষণ তাই শুধু বিরল নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে অজানা পরিবেশগুলির একটিতে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় প্রাণিকে জানার নতুন দরজাও খুলে দিল।













