পশ্চিমবঙ্গ সহ ৩ রাজ্যের পাহাড়ি ঝরনায় যুগান্তকারী আবিষ্কার, লুকিয়ে ছিল ৩ অজানা ব্যাঙ
বাংলা সহ ৩ রাজ্যের পাহাড়ি ঝরনা থেকে মিলল ৩ নতুন প্রজাতির ব্যাঙ। ১৫ বছরের গবেষণায় বদলে গেল ভারতের এই ব্যাঙদের পরিচিত ছবি।
পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে ঠান্ডা জল। চারপাশে ভেজা পাথর, শ্যাওলা আর ঘন সবুজ বন। প্রবল স্রোতের ঠিক পাশেই কোনও পাথরের গায়ে প্রায় অদৃশ্য হয়ে বসে রয়েছে ছোট্ট একটি ব্যাঙ।
দেখলে হয়ত মনে হবে, পাহাড়ি অঞ্চলের আর পাঁচটা ব্যাঙের মতোই। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে সেই ছোট্ট প্রাণিটিই খুলে দিল এক অজানা দরজা।
ভারতে ঝরনা ব্যাঙদের নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় একসঙ্গে ৩টি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের নাম দেওয়া হয়েছে অ্যামোলোপস আমাচি, অ্যামোলোপস বেলা এবং অ্যামোলোপস সেনডেনইউ।
পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ড থেকে পাওয়া এই ব্যাঙগুলি এতদিন পরিচিত প্রজাতির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। শরীরের গঠন থেকে ডিএনএ, সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করার পর গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন, এরা প্রত্যেকেই বিজ্ঞানের কাছে পৃথক ও নতুন প্রজাতি।
ঝরনার প্রবল স্রোতই এই ব্যাঙদের ঘর। এই ব্যাঙগুলি অ্যামোলোপস গণের সদস্য। সাধারণভাবে এদের ঝরনা ব্যাঙ বলা হয়। এই নামের কারণ তাদের বাসস্থান।
শান্ত পুকুর বা জলাভূমির বদলে এরা সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলের দ্রুত প্রবাহিত জলস্রোত, জলপ্রপাত এবং ভেজা পাথরের আশপাশের পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত। অ্যামোলোপস গণে বর্তমানে প্রায় ৯৫টি স্বীকৃত প্রজাতি রয়েছে এবং তাদের বিস্তৃতি মূলত এশিয়াজুড়ে।
ব্যাঙগুলি যে পরিবেশে থাকে তেমন পরিবেশে বেঁচে থাকাও সহজ নয়। পাহাড়ি ঝরনার জল এত দ্রুত বইতে পারে যে সাধারণ কোনও ছোট প্রাণি সহজেই স্রোতে ভেসে যেতে পারে।
ঝরনা ব্যাঙদের জীবন তৈরি হয়েছে এই অস্থির পরিবেশকে ঘিরেই। ভেজা পাথর, প্রবল স্রোত আর চারপাশের বনের ক্ষুদ্র বাসস্থানই তাদের পৃথিবী। আর সেই পৃথিবীর ভিতরেই এতদিন বিজ্ঞানীদের চোখের আড়ালে ছিল এই ৩টি আলাদা প্রজাতি।
এই আবিষ্কার মনে করিয়ে দেয় মানুষ পৃথিবীর মানচিত্র অনেক আগেই এঁকে ফেললেও, সেই মানচিত্রের প্রতিটি জঙ্গল, পাহাড়ি ঝরনা কিংবা ভেজা পাথরের গায়ে ঠিক কারা বসবাস করছে, তার সম্পূর্ণ তালিকা এখনও নেই। কখনও কখনও নতুন পৃথিবী খুঁজতে তাই মহাকাশে যেতে হয়না, একটি পাহাড়ি ঝরনার পাথরের উপর একটু ভাল করে তাকানোই যথেষ্ট।












