রাতে বাড়ি ফিরলেন নিগৃহীত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাদের দলের কেউ যুক্ত নন, বলল বিজেপি
সোনারপুরে নিগৃহীত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২টি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর রাতে বাড়ি ফেরেন তিনি। আদালতে যাবেন বলে জানালেন অভিষেক।
এক প্রয়াত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে দেখা করতে শনিবার সোনারপুরে যান সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে তিনি যখন হেঁটে ওই কর্মীর বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে ঘিরে স্লোগান চলতে থাকে। চোর স্লোগানের মধ্যেই হেঁটে যাওয়ার সময় অভিষেককে ডিম ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। কালো পতাকাও দেখানো হয়।
এক জায়গায় তাঁর গায়ে হাত পড়ে। তাঁকে নিগ্রহ শুরু হয়। চড়, থাপ্পড়, কিল, ঘুষি চলতে থাকে। অভিষেককে রক্ষা করতে একটি হেলমেট পরিয়ে দেন এক তৃণমূলকর্মী। কিন্তু সে হেলমেটও পুরো সময় টেকেনি।
একটা সময় অভিষেক বসে পড়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সে সময় তাঁকে ঘিরেই চলতে থাকে প্রহার। তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায়। চশমা খুলে পড়ে। পরে তাঁকে ওই মারধর থেকে বাঁচিয়ে কয়েকজন ওই প্রয়াত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিষেক সেখানে ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুরো বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন এবং ফোর্স পাঠাতে বলেছেন বলে জানান। তিনি যে সোনারপুর যাবেন তা আগেই তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে এই হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক।
অভিষেক এও দাবি করেন এটা সোনারপুরের বাসিন্দাদের কাজ নয়। বাইরে থেকে দুষ্কৃতি এনে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপি এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও তোপ দাগেন অভিষেক। যদিও বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে এই ঘটনায় তাদের কেউ যুক্ত নন। এটা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ফল। তবে যে কোনও হিংসা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
ওই তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে বসে অভিষেক জানান, তিনি এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। পরে সোনারপুর থেকে তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে মিন্টো পার্কের কাছে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছুটে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার অভিযোগ হাসপাতাল যাতে অভিষেককে ভর্তি না করে তার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর। মমতার সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা। ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। রাতে অভিষেক বাড়িতে ফেরেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস, আপ ও সমাজবাদী পার্টি নেতৃত্ব।











