ভোল বদলে যাবে কুমোরটুলি ঘাটের, পর্যটন আকর্ষণ থেকে মৃৎশিল্পী ও পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত
কুমোরটুলি ঘাটের ভোল বদল হতে চলেছে। যেখানে মৃৎশিল্পী থেকে পুণ্যার্থী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের কথা মাথায় রেখে তৈরি হবে নানা ব্যবস্থা। যা পর্যটকদেরও আকর্ষিত করবে।
কুমোরটুলি কলকাতার এমন এক নাম যা কেবল তার প্রাচীনত্ব বলেই নয়, তার মৃৎশিল্পের জন্য জগৎবিখ্যাত। যেখানকার প্রতিমা শিল্পীদের মৃন্ময়ী মূর্তি কলকাতা থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত, দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে বিদেশের নানা শহরে পৌঁছে যায় প্রতিবছর।
যেখানে দেশি বিদেশি পর্যটকেরা ভিড় জমান। সেই কুমোরটুলির পটুয়াপাড়া গড়ে উঠেছে গঙ্গার গা ঘেঁষে। গঙ্গার বহমান ধারা স্পর্শ করতে কুমোরটুলি ঘাটের কথা সকলেই জানেন। সেই কুমোরটুলি ঘাটের ভোল বদল হতে চলেছে।
কুমোরটুলি ঘাট থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত ৩০০ মিটার গঙ্গার পাড় ঢেলে সাজানো হতে চলেছে। যেখানে গঙ্গা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার জন্য টানা সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে সকলের সুরক্ষা বন্দোবস্তও।
এখানকার মৃৎশিল্পী থেকে পুণ্যার্থী থেকে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে ঘাটের সংস্কারের কাজ শুরু হবে। ঢেলে সাজানো হবে ঘাটের চেহারা।
এজন্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বন্দর ও আদানি বন্দরের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরাই কুমোরটুলি ঘাটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপদান করবে।
কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের প্রয়োজনকে মাথায় রেখে, নানা ধর্মীয় রীতি পালনের জন্য ঘাটে আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। নতুন কুমোরটুলি ঘাটে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করারও ব্যবস্থা। থাকবে নৌকাবিহারের ব্যবস্থা।
এছাড়া গঙ্গার ধার ধরে হাঁটার জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে এখানে আসা মানুষজনের সুবিধার কথা মাথায় রেখে থাকবে ফুডকোর্ট, দোকানপাট। সাধারণ শৌচালয়ের বন্দোবস্তও থাকবে এখানে।
এখানে আসা মানুষজনের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে থাকবে কড়া নজরদারি। থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও। কুমোরটুলি ঘাটের একটি তোরণ তৈরি করা হবে। এখানকার প্রাচীন স্থাপত্যগুলিকে আলোয় ভরে ফেলা হবে। এখানে থাকা এমন স্থাপত্য ও মন্দিরগুলির সংস্কার সাধন হবে।
১০ কোটি টাকা খরচে আগামী দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতার আদি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই কুমোরটুলি ঘাটের সংস্কারের প্রকল্প রূপায়িত করা হবে বলে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।











