মাহেশের রথযাত্রা শুরু হল কীভাবে, লোকমুখে আজও ঘোরে সে কাহিনি
ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব হল পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা। ৬২৫ বছর পুরনো এই রথযাত্রা শুরু হল কীভাবে সে কাহিনি আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।
হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথ জগৎবিখ্যাত। পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পর দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা মাহেশের রথযাত্রা। বঙ্কিমচন্দ্রের রাধারানী উপন্যাসে মাহেশের রথযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই রথযাত্রা আজও সমান উদ্দীপনা ও উৎসাহে পালিত হয়। লক্ষাধিক মানুষের ভিড় জমে এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে। বসে রথের মেলা। মাহেশের এই রথযাত্রা শুরু হল কীভাবে সে কাহিনি আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।
কথিত আছে বাংলার এক সাধু ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে হাজির হন। সেখানে তিনি জগন্নাথদেবকে দর্শন করার পর তাঁকে নিজে হাতে ভোগ রেঁধে খাওয়ানোর ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু মন্দিরের সেবায়েতরা তাঁকে সে অধিকার দেননি।
ক্ষোভে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী আমরণ উপবাস শুরু করেন। উপবাসের তৃতীয় দিন তিনি স্বপ্নে জগন্নাথদেবের দেখা পান। জগন্নাথদেব তাঁকে বাংলায় ফিরে গঙ্গার তীরে তপস্যা করতে বলেন।
সেখানে গঙ্গায় ভেসে একটি নিম কাঠ আসবে। সেই নিম কাঠ দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরুর নির্দেশ দেন জগন্নাথদেব। এটাও জানান যে তিনি ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর হাতে ভোগ খেতে চান।
স্বপ্নাদেশ পেয়ে ধ্রুবানন্দ ফিরে আসেন বাংলায়। মাহেশে ফিরে তপস্যা শুরু করেন। তারপর একদিন সেই নিম কাঠ ভেসে আসে গঙ্গা দিয়ে। সেই কাঠ তুলে তিনি ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করেন।
শুরু হয় মাহেশে জগন্নাথদেবের পুজো। এই মন্দিরে একসময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও হাজির হন। শ্রীচৈতন্যদেব মাহেশের নাম দিয়েছিলেন নব নীলাচল।











