সূর্যের গায়ে সমুদ্রের ঢেউ, ঘূর্ণি দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা
দূর থেকে শান্ত জ্বলন্ত গোলক মনে হলেও সূর্যের পৃষ্ঠে চলছে রীতিমতো তোলপাড়। বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে এবার ধরা পড়ল সূর্যের অদ্ভুত ঘূর্ণি।
পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্যকে একটি উজ্জ্বল, প্রায় নিখুঁত গোলকের মতই মনে হয়। কিন্তু সূর্যের একেবারে গায়ের কাছে পৌঁছে দেখার সুযোগ হলে সেই ধারনা মুহুর্তেই বদলে যেতে পারে।
সেখানে যেন ফুটছে এক বিশাল কড়াই। উত্তপ্ত প্লাজমা উঠে আসছে, ঠান্ডা হয়ে ফের নিচে নেমে যাচ্ছে। আর সেই ভয়ঙ্কর অস্থির পরিবেশের মধ্যেই এবার বিজ্ঞানীরা এমন কিছু দেখলেন যা এর আগে এত স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়নি।
সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠে ধরা পড়েছে অতি ক্ষুদ্র প্লাজমা ঘূর্ণি। কোনও কোনওটির প্রস্থ মাত্র ২০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। দেখতে অনেকটা সমুদ্রের ঢেউ ভেঙে পড়ার মুহুর্তে তৈরি হওয়া পাক বা ঘূর্ণির মত।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে এত ছোট গঠন দেখতে পাওয়া বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপের পক্ষেও প্রযুক্তিগত ক্ষমতার প্রায় সীমায় পৌঁছে যাওয়ার সমান।
আমেরিকার ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপের তোলা ধারাবাহিক ছবিতে সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের চৌম্বকীয় অঞ্চলগুলির কিনারায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ঘূর্ণি এবং সূক্ষ্ম ডোরার মত গঠন দেখতে পাওয়া গেছে।
পৃথিবীতে মেঘ, সমুদ্র কিংবা হ্রদের জলের উপরেও এই ধরনের গঠন দেখা যায়। বৃহস্পতি ও শনির বায়ুমণ্ডল এবং বিভিন্ন গ্রহের চৌম্বকীয় স্তরের কাছেও এমন নজির রয়েছে। কিন্তু সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠে এত সূক্ষ্ম স্তরে এই ঘটনাকে সরাসরি শনাক্ত করা এতদিন সম্ভব হয়নি।
সূর্যের এই ঘূর্ণি পৃথিবী থেকে বহু দূরে ঘটলেও তার গুরুত্ব বিশ্ববাসীর জন্য কম নয়। সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সৌর বিচ্ছুরণ এবং সূর্যের করোনার গ্যাসীয় বিচ্ছুরণের মত ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের সৌর কার্যকলাপ থেকে তৈরি মহাজাগতিক আবহাওয়া পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ, জিপিএস, যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনকি বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।












