মঙ্গলগ্রহে বাড়ি বানাবে মানুষ, হার্ডওয়্যার মিলতে পারে মহাকাশেই
পৃথিবী থেকে টন টন ধাতু বয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে মঙ্গলের কাছেই হতে পারে ভবিষ্যতের কাঁচামালের ভান্ডার। এমনকি সেখানে তৈরি হতে পারে ফেরার পথের জ্বালানিও।
মঙ্গলগ্রহে একদিন যদি সত্যিই মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে, তবে সেখানে বাড়ি বানানোর ইট কাঠ পাথরের থেকেও বড় সমস্যা হতে পারে একটি সাধারণ জিনিস। কারণ সেটিও যদি পৃথিবী থেকে পাঠাতে হয়, তবে তার পিছনে প্রয়োজন হবে রকেট, জ্বালানি, দীর্ঘ যাত্রা এবং বিপুল অর্থের।
একদল বিজ্ঞানীর হিসাব বলছে, ভবিষ্যতে মঙ্গলে বসতির জন্য প্রয়োজনীয় ভারী ধাতুর সবটাই হয়তো পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। সৌরজগতে ছড়িয়ে থাকা কিছু গ্রহাণুকেই ব্যবহার করা যেতে পারে মঙ্গলের জন্য বিশাল এক মহাজাগতিক কাঁচামালের ভান্ডার হিসেবে।
একটি স্থায়ী বসতির মঙ্গলে শুধু খাবার, জল বা অক্সিজেন হলেই চলবে না, প্রয়োজন হবে রোভার, যন্ত্রপাতি, আবাসনের কাঠামো, মেরামতির সরঞ্জাম এবং অসংখ্য ছোট যন্ত্রাংশের। বছরের পর বছর মানুষের বসতি থাকলে কোনও না কোনও যন্ত্র নষ্ট হবেই।
গবেষকদের মতে, এই প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ তৈরি করার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তার জন্য দরকার ধাতু। মঙ্গলে লোহা থাকলেও পৃথিবীতে ব্যবহৃত বহু ধরনের সংকর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধাতু সেখানে সহজে পাওয়া যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই ঘাটতি মেটাতেই গবেষকেরা নজর দিয়েছেন ধাতুসমৃদ্ধ গ্রহাণুর দিকে।
এই ধরনের গ্রহাণুতে লোহা ও নিকেলের সংকরের পাশাপাশি বিভিন্ন সালফাইড খনিজ এবং অল্প পরিমাণে প্ল্যাটিনাম সদৃশ ধাতুও থাকতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দূর থেকে পাওয়া তথ্য দেখে কোনও গ্রহাণুর ভিতরে ঠিক কতটা ধাতু রয়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানীরা একটি মালবাহী মহাকাশযানেরও হিসাব করেছেন, যার প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেকটাই স্পেসএক্স স্টারশিপের মতো। হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, এই ক্ষমতার মহাকাশযান দিয়ে কোনও নির্বাচিত ধাতব গ্রহাণুতে গিয়ে ধাতু সংগ্রহ করে সরাসরি মঙ্গলে ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
তখন গবেষকেরা ভাবেন, প্রথমে মঙ্গল থেকে একটি ধাতুসমৃদ্ধ গ্রহাণুতে যাবে মহাকাশযান। সেখানে প্রয়োজনীয় ধাতু সংগ্রহ করার পরে সেটি যাবে আর একটি কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণুতে।
এই দ্বিতীয় ধরনের গ্রহাণুতে জল এবং এমন উপাদান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা ব্যবহার করে মহাকাশেই রকেটের জ্বালানি তৈরি করা যেতে পারে। সেই জ্বালানি নিয়ে ফের মঙ্গলের পথে রওনা দেবে মালবাহী মহাকাশযান।












