মরুভূমির বুকে হারিয়ে যাওয়া এক হোটেল, শত শত বছর আগে এখানেই রাত কাটাতেন ব্যবসায়ী, সৈন্য ও তীর্থযাত্রীরা
আজকের দিনে দীর্ঘ সড়ক যাত্রায় রাস্তার পাশে হোটেল বা মোটেলে রাত কাটানো খুবই পরিচিত এক বিষয়। কিন্তু কয়েকশো বছর আগেও মরুভূমির দুর্গম পথ ধরে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য ছিল এমনই বিশ্রামের ব্যবস্থা।
চারদিকে বিস্তীর্ণ মরুভূমি। দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদ, রাতে নেমে আসত অন্যরকম শীতলতা। সেই দুর্গম পথেই দিনের পর দিন উটের কারাভান নিয়ে এগিয়ে চলতেন ব্যবসায়ীরা। একই রাস্তা ব্যবহার করতেন ডাক বাহক, সৈন্য এবং তীর্থের উদ্দেশে রওনা দেওয়া তীর্থযাত্রীরা।
দীর্ঘ যাত্রার মাঝখানে তাঁদের প্রয়োজন হত নিরাপদে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গার। খাবার ও পানীয় জল মজুত করা, পশুগুলিকে বিশ্রাম দেওয়া এবং পরবর্তী পথের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রয়োজনীয় ছিল। কয়েকশো বছর আগে সেই প্রয়োজন মেটাত কারাভান সরাই বা কাফেলার সরাইখানা।
মিশরের উত্তর সিনাইয়ের আসিলা এলাকায় এমনই একটি প্রাচীন কারাভান সরাইয়ের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। তাঁদের ধারনা, উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষটি ছিল তুলনামূলক ভাবে একটি ছোট কারাভান সরাই।
একসময় এই পথ ছিল মিশরের সঙ্গে আরবের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে বহু মানুষ এই পথ ব্যবহার করতেন। তীর্থযাত্রীদের কাছেও পথটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। দীর্ঘ মরুপথ পেরোনোর সময় এই সরাইতেই রাত কাটাতেন তাঁরা।
খননের সময় ভগ্নপ্রায় এই জায়গাটি সম্পর্কে আরও চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। এখানে পাওয়া দেওয়ালের কিছু অংশ তৈরি হয়েছিল মাটির ইট ও লাল ইট দিয়ে। আবার ভিত শক্ত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল বড় আকারের চুনাপাথরের ব্লক।
ধ্বংসাবশেষের মধ্যে শুধু দেওয়াল নয়, পাওয়া গেছে সেই সময়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা চিহ্নও। প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেয়েছেন বড় আকারের মাটির পাত্র। মনে করা হচ্ছে, এগুলিতে জল এবং খাবার মজুত করে রাখা হত।












