ভারতের একমাত্র গির্জা যা বর্ষায় ডুব দেয় জলে, অনেকে ডাকেন ভাসমান গির্জা বলে
ভারতের একটি মাত্র গির্জা যেখানে বর্ষার সময় যাওয়া যায়না। হারিয়ে যায় জলে। জেগে থাকে কেবল চুড়োর সামান্য একটু অংশ।
কেউ এই গির্জাকে বলেন ভূতুড়ে গির্জা। কেউ বলেন ভাসমান গির্জা। ভারতে এমন গির্জা একটিই রয়েছে। তাই এ গির্জা দেখার ইচ্ছা দমন করতে পারেননা অনেক পর্যটকই।
গির্জাটি তৈরি হয়েছিল ১৮৬০ সালে। ফরাসি গথিক শিল্পশৈলী এই ভগ্নপ্রায় গির্জায় আজও স্পষ্ট। কর্ণাটকের হেমাবতী নদীর ধারে এই গির্জা তৈরি হয়েছিল।
সব ঠিকই ছিল। কিন্তু যখন এখানে হেমাবতী ড্যাম তৈরি হয় তখনই হয় সমস্যা। এখানকার অনেক গ্রাম জলের তলায় চলে যায়। মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দেন।
এই শেত্তিহাল্লি রোজারি চার্চের নানা অংশ নষ্ট হতে থাকে। এখন অনেক জায়গাই ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে। তবে প্রধানত লাইম স্টোন, পাথর দিয়ে তৈরি গির্জাটির বেশ কিছুটা আজও অক্ষত। যা দেখতে বছরের বিভিন্ন সময় মানুষ হাজিরও হন এখানে। তবে বর্ষায় নয়।
কারণ বর্ষার সময় জল বেড়ে যায়। সেই জল ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে গির্জাটিকে। জল বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে গির্জাটিকে বিশাল ওই জলের মাঝখানে এক ভাসমান গির্জা বলে মনে হয়। যার কেবল মাথার কিছুটা অংশ জলের ওপর কোনক্রমে জেগে থাকে। বাকিটা হারিয়ে যায় জলের তলায়।
এভাবে বছরের পর বছর কেটে চলেছে। বর্ষা এলে বিশাল জলরাশির মাঝখানে একা কোনওভাবে মাথাটুকু বার করে চেয়ে থাকে এই গির্জা। একদম একা।
হয়তো এই পরিস্থিতির কারণেই একে ভূতুড়ে বলে ব্যাখ্যা করেন অনেকে। তবে পর্যটকদের কাছে কর্ণাটকের হাসান শহরের কাছে শেত্তিহাল্লি নামে জায়গার এই গির্জাটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হয়ে বেঁচে আছে।











