বাংলার কাছেই রয়েছে দেশের অ্যামাজন জঙ্গল, যাকে ডাকা হয় পূর্বের অ্যামাজন বলে
বাংলার কাছেই রয়েছে এই জঙ্গল। এই জঙ্গলকেই বলা হয় অ্যামাজন অফ দ্যা ইস্ট বা পূর্বের অ্যামাজন। ভারতের এই জঙ্গলই দেশের অ্যামাজন বলে পরিচিত।
গহন অরণ্য যাকে বলে এ জঙ্গল তাই। বৃষ্টি এখানে একটু বেশিই হয়। সবুজে ভরা অরণ্যে মানুষের আনাগোনা তেমন নেই। ফলে সেখানে নিশ্চিন্তে প্রকৃতির বুকে জীবন কাটায় বিভিন্ন প্রাণি।
এ জঙ্গলে রয়েছে ৪২ ধরনের বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণি, ৪০টির ওপর বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ, ২০০টির ওপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং প্রচুর রংবাহারি প্রজাপতি।
এছাড়াও জীব বৈচিত্র্যের দেখা মেলে এখানে। ২৩৪.২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা এই জঙ্গল ২০২১ সালে ভারতের জাতীয় উদ্যানের তালিকায় জায়গা পায়।
এখানেই রয়েছে দিহিং নদী। আর রয়েছে পাটকাই পর্বতমালা। এই নদী পাহাড়ের মিলনকেই এই জঙ্গলের নামকরণ হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। এ জঙ্গলের নাম দিহিং পাটকাই জাতীয় উদ্যান।
অসমের ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়া জেলায় অবস্থিত এই বিস্তীর্ণ জঙ্গল। এই অরণ্য অ্যামাজনের মতই একটি রেন ফরেস্ট। গহন অরণ্য, বৃষ্টির আধিক্য, জীব বৈচিত্র্য এ জঙ্গলকে ভারতের অ্যামাজন তকমা দিয়েছে। যাকে ডাকা হয় অ্যামাজন অফ দ্যা ইস্ট নামে।
এই জঙ্গলে প্রচুর ফুলেরও দেখা পাওয়া যায়। যা জঙ্গলের মাঝেই ফুটে থাকে। এছাড়া এই জঙ্গলে শতাধিক রকমের অর্কিড দেখতে পাওয়া যায়। বাঘ, লেপার্ড সহ ৭ রকমের বনবিড়াল প্রজাতির জীব একমাত্র ভারতের এই জঙ্গলেই রয়েছে।
যেখানে বাঘ ও লেপার্ড ছাড়াও দেখতে পাওয়া যায় ক্লাউডেড লেপার্ড, লেপার্ড ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, জঙ্গল ক্যাট এবং মার্ব্লেড ক্যাট। হুলক গিবন সহ বিভিন্ন ধরনের বানরেরও দেখা পাওয়া যায় এই জঙ্গলে।
এছাড়া হাতি, হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, সজারু, ওয়াটার বাফেলো, সম্বর হরিণ সহ নানা প্রজাতির প্রাণি এ জঙ্গলে নজর কাড়ে। এই জঙ্গলকে কেন্দ্র করে নানা আদিবাসী সম্প্রদায়েরও বাস।











