এ গ্রামে কারও বাড়িতে রান্না হয়না, সারাদিন কেউ খালি পেটেও কাটান না
ভারতে এমন এক গ্রাম রয়েছে যেখানে কারও বাড়িতে রান্না হয়না। তাহলে কি তাঁরা না খেয়ে থাকেন, এমনটা তো একেবারেই নয়।
বাড়িতে রান্না তো সকলের হয়। বাড়ির সদস্যদের দৈনন্দিন খাবারের যোগান আসে তাঁদের রান্নাঘর থেকেই। কিন্তু যদি এমন হয় যে কোনও বাড়িতে রান্নাই হচ্ছেনা। এক আধ দিন হলে ধরে নিতে হবে কোথাও নিমন্ত্রণ আছে বা কোনও মঠ বা মন্দিরে গিয়ে তাঁরা খাচ্ছেন।
কিন্তু তা তো বছরের পর বছর হতে পারেনা। অবাক করা হলেও এটাই হচ্ছে। একটি গ্রাম এমন রয়েছে যেখানে কোনও বাড়িতে রান্না হয়না। হাঁড়ি বসে না। তাহলে গ্রামবাসী খান কোথায়? সেখানেই চমক লুকিয়ে আছে।
গুজরাটের চন্দনকি গ্রামে রয়েছে একটি বিশাল জায়গা। যেখানে প্রায় ১ হাজার বাসিন্দার এই গ্রামের সকলের জন্য প্রতিদিন রান্না হয়। গুজরাটের পারম্পরিক নানা পদ সেখানে রান্না হয়।
রয়েছে একটি বিশাল কমিউনিটি হল। সেখানে প্রতিদিন গ্রামের সকলে হাজির হন। সঙ্গে নিয়ে আসেন বন্ধু থেকে আত্মীয়দেরও। বিশাল হলে অনেক টেবিল চেয়ার পাতা আছে। সেখানে তাঁরা সকলে বসেন। গরম খাবার আসে। চলে খাওয়াদাওয়া।
তবে কেবল খাওয়াদাওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য নয়। এখানে গ্রামের সকলের সঙ্গে সকলের দেখা হয়। খেতে খেতে কথা হয়। যা তাঁদের মধ্যে একটা সুন্দর বন্ধন তৈরি করে। হাসি ঠাট্টা গল্প গুজবে মন ভাল করে। কাটিয়ে দেয় একাকীত্ব।
এই একাকীত্বই কিন্তু এই গ্রামের বাড়তে থাকা সমস্যা ছিল। কারণ গ্রামের নব্য প্রজন্মের অনেকেই ভাগ্যান্বেষণে শহরে পাড়ি দেন। বাড়িতে পড়ে থাকেন তাঁদের বাবা মা। তাঁরা ক্রমে একা হতে থাকেন।
এই একাকীত্ব কাটাচ্ছে গ্রামের এই একসঙ্গে রান্নার ভাবনা। গ্রামের এক বাসিন্দা আমেরিকায় অনেকদিন কাটানোর পর গ্রামে ফিরে আসেন। ওই মহিলাই এই ভাবনার জন্ম দেন। যাঁর হাত ধরে চন্দনকি গ্রামে আর কেউ বাড়িতে রান্না করেননা।
বরং প্রহর গোনেন কখন কমিউনিটি হলে খেতে যাবেন তার। কেবল পেট ভরানো নয়, তাঁদের মনের খিদেও একসঙ্গে মিটে যায় সকলের সঙ্গে মেলামেশার মধ্যে দিয়ে।












