Feature

শান্ত প্রত্যন্ত গ্রামটি বছরের ৫ দিন হয়ে ওঠে মানুষের মিলনক্ষেত্র, পালিত হয় আদিবাসীদের কুম্ভ

সারাবছর কেউ এ গ্রামের খবর রাখে না। কিন্তু বছরের ৫ দিন এ গ্রামের বড়ই কদর। যেখানে পালিত হয় আদিবাসীদের কুম্ভমেলা।

ভারতের আর পাঁচটা অনামী গ্রামের মতই এ গ্রাম। হাজার হাজার গ্রামের একটি। সারাবছর এই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ এক সাদামাটা জীবন কাটান। শান্ত গ্রামে কারও আসা যাওয়াও থাকেনা। সেই গ্রামই বছরের ৫ দিন হয়ে ওঠে মানুষের মিলনক্ষেত্র।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে হাজির হন। পুজো হয় ভগবান শিব ও ভগবান বিষ্ণু-র। সেই সঙ্গে বসে বিশাল মেলা। যা মাঘ শুক্ল একাদশী থেকে চলে পূর্ণিমা পর্যন্ত।

স্কুলজীবনে কোল, ভিল, সাঁওতাল এই ৩ আদিবাসী সম্প্রদায়ের নাম প্রথমেই সামনে আসত। সেই ভিলেরাই হলেন এই মেলার উদ্যোক্তা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিল আদিবাসীরা এখানে অবশ্যই হাজির হন।

এছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ আসেন এখানে। আর আসেন অনেক পর্যটক। যাঁরা এই দেশের এই অন্য মেলায় ঘুরে অভিজ্ঞতার ঝুলি আরও সমৃদ্ধ করতে চান।

রাজস্থানের দুঙ্গারপুরের বাণেশ্বর গ্রামে এই মেলা বসে প্রতিবছর। এখানে রয়েছে বাণেশ্বর মহাদেব মন্দির। সেখানেই প্রাচীন রীতি মেনে পুজো দেন সকলে। মেলা জমে ওঠে নাচে গানে।

৫ দিন ধরে এ গ্রামকে চেনাই যায়না। এত মানুষের সমাগম হয়। এই বাণেশ্বর গ্রামের কাছেই মিশেছে সোম আর মাহি নদী। তার পাশেই এই মেলার তাৎপর্য এতটাই যে এই মেলাকে ‘আদিবাসীদের কুম্ভ’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

এই মেলাটি এখন ২ ভাগে হয়। একটি হয় বাণেশ্বর মহাদেব মন্দিরের সামনে। অন্যটি হয় কাছেই পরে তৈরি বিষ্ণু মন্দিরের সামনে। ৫ দিনের এই জমজমাট মেলা ভারতের মেলা মানচিত্রের এক অন্যতম অংশ।

Show Full Article
nilkantho.in app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *