Feature

ডাইনোসররা দৈত্য হল, কিন্তু ছোট হল না কেন, মিলল উত্তর

পৃথিবীর ইতিহাসে ৮০ টনেরও বেশি ওজনের ডাইনোসর ছিল, অথচ ইঁদুরের মত ছোট ডাইনোসর কোথায়? নতুন গবেষণায় সামনে এল স্তন্যপায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা।

ডাইনোসরের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দৈত্যাকার সব প্রাণি। লম্বা গলার অ্যাপাটোসরাস, ভয়ংকর টাইরানোসরাস রেক্স, কিংবা এমন সব সওরোপড যাদের পাশে দাঁড়ালে মানুষকে প্রায় খেলনার মতো দেখাত।

ডাইনোসররা কত বড় হতে পারত, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। কিন্তু এবার গবেষকেরা প্রশ্নটিকে একেবারে উল্টে দিয়েছেন। ডাইনোসররা এত বড় হতে পেরেছিল, কিন্তু খুব ছোট হতে পারল না কেন? একটি ইঁদুরের মতো শরীর। কিংবা ছোট্ট চড়ুইয়ের মতো আকার।

পৃথিবীর প্রায় সব বড় মেরুদণ্ডী প্রাণিগোষ্ঠীর মধ্যেই এমন ক্ষুদ্র সদস্য দেখা যায়। অথচ পাখিদের বাদ দিলে ডাইনোসরদের ক্ষেত্রে যেন কোথাও একটি অদৃশ্য দেওয়াল ছিল।

সবচেয়ে ছোট পরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক পাখি নয় এমন ডাইনোসরদের ওজনও ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রামের কাছাকাছি। অর্থাৎ এক পাউন্ডের মতো। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম পাখি, স্তন্যপায়ী কিংবা সরীসৃপের তুলনায় সেটিও বিশাল।

নতুন গাণিতিক মডেলিং বলছে, এর উত্তর সম্ভবত শুধু ডাইনোসরের শরীরের গঠন বা বিপাক ক্রিয়ার মধ্যে লুকিয়ে নেই। সমস্যার একটি অংশ হয়ত ছিল তাদের চারপাশের পৃথিবীতেই। আর সেই গল্পে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠছে সেই সময়ের ছোট ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি।

৮০ টন সম্ভব, কিন্তু কয়েক গ্রাম নয়, ডাইনোসরের বিবর্তনের দিকে তাকালে ব্যাপারটি আরও অদ্ভুত মনে হয়। কিছু ডাইনোসর ৮০ টনেরও বেশি ওজন অর্জন করেছিল। অথচ অন্য প্রান্তে গিয়ে তাদের শরীরের আকার কয়েক গ্রামের স্তরে নেমে আসেনি।

ডাইনোসররা সেখানে পৌঁছতে পারল না কেন? অঙ্ক কষে ডাইনোসরের শরীরের সীমা খুঁজলেন বিজ্ঞানীরা। এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণির শরীরের আকারের বণ্টন নিয়ে গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেছেন তাঁরা।

ডাইনোসরের যুগে স্তন্যপায়ীরাও পৃথিবীতে ছিল। তবে আজকের হাতি, ঘোড়া বা বাঘের মতো বিশাল আকারে নয়। দীর্ঘসময় ধরে তাদের অধিকাংশই ছিল তুলনামূলক ছোট।

কেউ পোকামাকড় খেত, কেউ বীজ বা অন্য ছোট খাদ্যের উপর নির্ভর করত। অর্থাৎ ক্ষুদ্র শরীরের প্রাণির জন্য যে পরিবেশগত স্থান ছিল, তার অনেকগুলিই স্তন্যপায়ীরা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করছিল। নতুন গবেষণার অন্যতম সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এখানেই।

ডাইনোসরের কোনও বংশধারা যদি আরও ছোট হতে শুরু করত, তবে তাকে সেই একই খাবার, আশ্রয় ও পরিবেশের জন্য ছোট স্তন্যপায়ীর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে হত। সেই প্রতিযোগিতায় হয়তো স্তন্যপায়ীরা এতটাই প্রতিষ্ঠিত ছিল যে পাখি নয় এমন ডাইনোসরদের পক্ষে ওই ক্ষুদ্র শরীরের আকারের পরিসরে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

Rashifal App
Show Full Article
nilkantho.in App