World

ইউরেনিয়াম কমিয়ে দিচ্ছে ব্যাকটেরিয়া, তেজস্ক্রিয়তা নিরসনে খুলল নতুন পথ

খাবার হিসেবে শুধু গ্লিসারল, তারপরই দূষিত খনির জলে শুরু হল অবাক করা পরিবর্তন। জলে ভেসে থাকা ইউরেনিয়ামকে বন্দি করে ফেলল অণুজীবেরা।

মাটির প্রায় ২ কিলোমিটার গভীরে অন্ধকার খনির জল। সেখানে অক্সিজেন প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে রয়েছে অসংখ্য অণুজীব। আর তাদের মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে বিষাক্ত ইউরেনিয়াম দূষণের বিরুদ্ধে এক অপ্রত্যাশিত অস্ত্র।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ইউরেনিয়াম দূষিত খনির জলে থাকা স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া সম্প্রদায়কে সামান্য গ্লিসারল দিলে তারা এমন এক প্রক্রিয়া শুরু করে, যার ফলে জলে দ্রবীভূত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

১৩০ দিনের পরীক্ষার শেষে জলে থেকে যায় মাত্র ৫ শতাংশ ইউরেনিয়াম। আরও নির্দিষ্টভাবে গবেষণায় প্রাথমিক ১ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব নেমে আসে ০.০৪ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে। অর্থাৎ হ্রাস প্রায় ৯৬ শতাংশ। কিন্তু ইউরেনিয়াম গেল কোথায়? সেখানেই রয়েছে গবেষণাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ।

জলের নমুনা নেওয়া হয়েছিল জার্মানির একটি ইউরেনিয়াম খনির জল থেকে। পরীক্ষাগারে সেই জলে গ্লিসারল যোগ করে অক্সিজেনহীন পরিবেশ তৈরি করা হয়, যাতে খনির প্রায় ২ হাজার মিটার গভীরের বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি অবস্থা পাওয়া যায়।

গ্লিসারল পেয়ে জলের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলির কার্যকলাপ বাড়তে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে জলে ভাসমান ইউরেনিয়াম কমতে শুরু করে। প্রথম ২০ দিনে পরিবর্তন তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু তার পরে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ দ্রুত কমে যায়। ১৩০ দিন পরে গবেষকেরা দেখেন, ইউরেনিয়ামের বড় অংশ আর জলে দ্রবীভূত অবস্থায় নেই।

তাই ভবিষ্যতে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিস্কার করার অস্ত্র হয়ত শুধু বিশাল যন্ত্র বা জটিল রাসায়নিক পদ্ধতি নয়। মাটির গভীরে আগে থেকেই বেঁচে থাকা অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়াও সেই কাজে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

Show Full Article
nilkantho.in App