পৃথিবীতেই লুকিয়ে ছিল ১১২১ অজানা প্রাণি, কয়েকটিকে দেখে মনে হবে ভিনগ্রহের জীব
১ বছরের সমুদ্র অভিযানে মিলেছে ১১২১টি অজানা প্রাণি। কয়েকটিকে দেখতে এতটাই অদ্ভুত যে ভিনগ্রহের জীব বলেও ভুল হতে পারে।
সমুদ্রের কয়েকশো মিটার নিচে অন্ধকারের মধ্যে ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে এমন এক প্রাণি যার মুখ আর শরীর দেখে প্রথম দর্শনে তাকে পৃথিবীর জীব বলেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হতে পারে। আবার একটি ক্ষুদ্র কৃমি নিজের ঘর বানিয়েছে এমন এক প্রাণির শরীরের ভিতরে, যার কঙ্কাল দেখতে প্রায় কাচের তৈরি প্রাসাদের মতো।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অগভীর সমুদ্রেই পাওয়া গিয়েছে তিন সেন্টিমিটারেরও ছোট এমন এক রঙিন কৃমি, যার উজ্জ্বল শরীর হয়ত শিকারিদের জন্য বিপদের সংকেত। এগুলি কোনও কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার কাল্পনিক জীব নয়। সবগুলিই রয়েছে এই পৃথিবীর সমুদ্রে।
আর এমন ১-২টি নয়। মাত্র ১ বছরে বিজ্ঞানীরা নথিভুক্ত করেছেন ১১২১টি আগে অজানা সামুদ্রিক প্রজাতি। ওশান সেনসাস নামে একটি সংস্থা এই গণনার কাজ করছে। ওশান সেনসাসের তৃতীয় বছরের কাজের অংশ হিসেবে ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই প্রাণিগুলির সন্ধান ও সনাক্তকরণের কাজ হয়েছে।
মানুষ চাঁদে গিয়েছে, মঙ্গলগ্রহে রোবট পাঠিয়েছে। কিন্তু নিজের পৃথিবীর সমুদ্রের গভীরে ঠিক কত ধরনের প্রাণি রয়েছে, সেই হিসাব এখনও সম্পূর্ণ নয়। ওশান সেনসাসের মতে, পৃথিবীর সমুদ্রের প্রাণি প্রজাতির একটি বড় অংশ এখনও বিজ্ঞানের কাছে অজানা।
এই অজানা জগতের মানচিত্র তৈরির জন্যই চলছে ওশান সেনসাসের কাজ। গত ১ বছরে ১৩টি অভিযান এবং ৯টি বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কার বিষয়ক কর্মশালার মাধ্যমে ১১২১টি পূর্বে অজানা সামুদ্রিক প্রজাতি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের তুলনায় সামুদ্রিক প্রজাতি সনাক্তকরণের এই বার্ষিক হার প্রায় ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।
এই অভিযানে কোথাও পাওয়া গিয়েছে প্রবাল, কোথাও কাঁকড়া, চিংড়ি, সি আর্চিন বা অ্যানিমোন। নমুনা এসেছে অগভীর উপকূল থেকে শুরু করে ৬ হাজার ৫৭৫ মিটার পর্যন্ত গভীর সমুদ্র থেকেও। তবে কয়েকটি প্রাণি আলাদা করেই বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে।
মঙ্গলগ্রহে প্রাণ আছে কি না, সেই উত্তর এখনও মানুষের হাতে নেই। কিন্তু তার আগে নিজের পৃথিবীর সমুদ্র যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে ভিনগ্রহের জীব খুঁজতে কখনও কখনও অন্য গ্রহে যাওয়ার প্রয়োজন হয়না। পায়ের নিচের নীল পৃথিবীতেই এখনও এমন হাজার হাজার প্রাণি লুকিয়ে রয়েছে, যাদের সঙ্গে মানুষের পরিচয়ই হয়নি।












