World

১৫ লক্ষ বছরের একটি মুখ বদলে দিতে পারে মানুষের ইতিহাস

দেখতে হোমো ইরেক্টাস, অথচ মুখে আরও প্রাচীন মানুষের ছাপ। একটি জীবাশ্ম ঘিরে নতুন করে উঠছে প্রশ্ন যা বদলাতে পারে মানবসভ্যতার ইতিহাস।

একটি মুখ। চোখ নেই। ত্বক নেই। কয়েক লক্ষ বছর আগেই হারিয়ে গিয়েছে তার জীবনের প্রায় সমস্ত চিহ্ন। তবু পাথর হয়ে যাওয়া সেই মুখের অংশগুলি জুড়ে বিজ্ঞানীরা যেন তাকানোর সুযোগ পেয়েছেন প্রায় ১৫ লক্ষ বছর আগের এক মানুষের পূর্বপুরুষের দিকে। আর সেই মুখই এখন মানুষের বিবর্তনের পরিচিত গল্পে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

ইথিওপিয়ার গোনা অঞ্চলে পাওয়া ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ বছর পুরনো একটি করোটির জীবাশ্ম মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। ডিএএন৫/পি১ নামে পরিচিত এই জীবাশ্মটিকে প্রাথমিক হোমো ইরেক্টাস-এর প্রতিনিধি বলে মনে করা হলেও, তার মুখের গঠনে আরও প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যও দেখা যাচ্ছে।

জীবাশ্মটি সম্পূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়নি। মুখ, দাঁত এবং খুলির বিভিন্ন অংশ আলাদা ছিল। গবেষকেরা হাই-রেজোলিউশন মাইক্রো সিটি স্ক্যান ব্যবহার করে প্রতিটি অংশের ডিজিটাল মডেল তৈরি করেন। পরে কম্পিউটার পুনর্গঠনের মাধ্যমে খণ্ডাংশগুলি জুড়ে খুলির প্রায় সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল রূপ তৈরি করা হয়।

গবেষকদের মতে, করোটিটি হর্ন অফ আফ্রিকা থেকে পাওয়া প্রারম্ভিক প্লাইস্টোসিন যুগের সবচেয়ে সম্পূর্ণ হোমো ক্রেনিয়ামগুলির অন্যতম। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, করোটির মস্তিষ্ক কোটরের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য হোমো ইরেক্টাসের সঙ্গে মিললেও মুখ ও দাঁতে আরও পুরনো সময়ের ছাপ রয়েছে।

আবিষ্কারটি হোমো ইরেক্টাসের উৎপত্তি এবং আফ্রিকা থেকে প্রাচীন মানুষের অভিবাসন সম্পর্কে প্রচলিত ধারনাকেও জটিল করে তুলছে। সম্ভবত মানব বিবর্তন কোনও একমুখী সরল প্রক্রিয়া ছিল না, একই সময়ে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মানবগোষ্ঠী পাশাপাশি বসবাস করত এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ডিএএন৫/পি১ মানুষের ইতিহাসের চূড়ান্ত উত্তর দেয়নি। বরং ১৫ লক্ষ বছরের পুরনো এই মুখটি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বর্তমান মানুষের পূর্বপুরুষরা আসলে কোথা থেকে এসেছিল এবং কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

Show Full Article
nilkantho.in App