আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ জিতল স্পেন, কেঁদে ফেললেন মেসি
পরপর ২ বার বিশ্বকাপ জেতার দরজায় পৌঁছেও স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল মেসির। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শেষ হাসি হাসল স্পেন।
বিশ্বকাপ জিতে নিল স্পেন। অনেক আশা জাগিয়েও মেসির আর্জেন্টিনার কাপ জয় হল না। প্রথম ৯০ মিনিটের খেলায় কোনও গোল হয়নি। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
এক্সট্রা টাইমের খেলা চলাকালীন ১০৬ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটি করেন স্পেনের ফেরান তোরেস। ওটা শুধু গোল ছিলনা, ওটাই ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মুহুর্ত।
১০ জনে খেলা আর্জেন্টিনা লড়াই কম দেয়নি। কিন্তু ১ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ ফাইনালে কম, এটা হয়তো কোথাও একটা ধাক্কার কারণ হল আর্জেন্টিনার জন্য।
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম এদিন ছিল কানায় কানায় ভর্তি। খেলা শুরুর পর থেকে কিন্তু স্পেন দাপট দেখাতে শুরু করে। স্পেনের তারুণ্যের সামনে কিছুটা ধীর মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনাকে।
তবে এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে খেলার শেষের দিকে পৌঁছে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। তাই আর্জেন্টিনার ভক্তরা অপেক্ষা করছিলেন কখন আর্জেন্টিনা জ্বলে উঠবে। মেসি জ্বলে উঠবেন।
কিন্তু খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্ডেজের লাল কার্ড দেখাটা বড় সমস্যার কারণ হয়। ফাইনালের মঞ্চে বাকি ম্যাচটা ১০ জনে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
এদিন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১১টি গোলমুখী বল রুখে দেন। প্রায় পাঁচিলের মত গোলমুখ আগলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ১০৬ মিনিটে স্পেনের তোরেসের গোল সব অঙ্ক বদলে দেয়।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি জয়ের সঙ্গে স্পেন ২ বার বিশ্বকাপ জিতল। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর এবারই ১৬ বছর পর তারা ফাইনালে পৌঁছেছিল।
আর ফাইনালে পৌঁছে ফের জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্প্যানিশ আর্মাডা। এদিন পুরস্কারের মঞ্চে কেঁদে ফেলেন মেসি। চোখে জল ছিল গোটা আর্জেন্টিনা দলের।
স্পেনের ১৯ বছর বয়সী সেন্টার হাফ পাউ কুবারসি ইয়ং প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার জিতেছেন। স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমোন জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন গ্লাভস। স্পেনের মিডফিল্ডার রডরি জিতে নিয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার সম্মান। পেয়েছেন গোল্ডেন বল।
এবার স্পেন আরও একটি রেকর্ড গড়েছে। বিশ্বকাপে স্পেন সেই দল যারা পুরো প্রতিযোগিতায় মাত্র ১টি গোল খেয়েছে। বেলজিয়ামই একমাত্র দল যারা স্পেনের জালে বল জড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।












