বিমানে চড়ে ২ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিল ৭ কথাবলা সাদা তিমি
তাদের পরিচিত জীবন ছিল এক জায়গায়। সেখানেই কেটেছে বছরের পর বছর। কিন্তু যাকে এতদিন ঘর বলে চিনত তারা, সেই ঘর বন্ধ হওয়ায় আচমকাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ভবিষ্যৎ।
১টি নয়, একসঙ্গে ৭টি সাদা তিমিকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে নিয়ে যাওয়া হল নতুন ঠিকানায়। এই ৭টি সাদা তিমিই স্ত্রী। প্রায় ২ হাজার মাইল পথ পেরিয়ে তারা নিরাপদেই নতুন আশ্রয়ে পৌঁছেছে।
তবে এত বড় প্রাণিকে তো আর সাধারণ গাড়ি বা বিমানে তুলে দিলেই হল না। বিশেষ জল ভর্তি পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল তাদের জন্য। প্রথমে ট্রাকে, তারপর বিমানে সম্পন্ন হয় দীর্ঘ যাত্রা। সঙ্গে ছিলেন পশু চিকিৎসক এবং সামুদ্রিক প্রাণির পরিচর্যায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা।
এই বেলুগা বা সাদা তিমি অত্যন্ত সামাজিক প্রাণি। তাই এই ৭টি স্ত্রী বেলুগাকে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে একসঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছনোর পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাবার এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে জুলাই মাসে প্রথম দফায় ৬টি বেলুগাকে সরানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪টি পৌঁছয় আমেরিকার শিকাগোর একটি অ্যাকোয়ারিয়ামে। অন্য ২টি পুরুষ বেলুগাকে নিয়ে যাওয়া হয় সান আন্টোনিওয়। সেই যাত্রাতেও বিশেষ জল ভর্তি পাত্র ব্যবহার করে ট্রাক ও বিমানে প্রাণিগুলিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
তবে এই বেলুগাদের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া আশ্রয় থেকে তাদের অন্য আশ্রয়ে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বেলুগারা পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তাদের শরীরের সাদা রং সহজেই নজর কাড়ে। এদের বাস মূলত উত্তর গোলার্ধের সুমেরু সাগর অঞ্চলের বরফ শীতল জলে। তবে তাদের আরও একটি অসাধারণ পরিচয় রয়েছে।
বেলুগারা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে সক্ষম। শিস, কিচিরমিচির, ক্লিক থেকে শুরু করে নানাধরনের শব্দ করতে পারে বেলুগারা। শব্দ ব্যবহার করে বেলুগারা পথ খুঁজতে এবং শিকার সনাক্ত করতে পারে।












