মাছ অথচ সাঁতারের বদলে হাঁটে, ২৫০টিরও কম রয়েছে পৃথিবীতে
বুড়ো আঙুলের চেয়ে বড় নয়, সাঁতারের বদলে সমুদ্রের তলায় হেঁটে বেড়ায়। দেখলে প্রথমে মাছ বলে মনে নাও হতে পারে।
মাথার উপরে খাড়া পাখনা। মুখের কাছে টকটকে লাল রং। আর ঠোঁটের ভঙ্গি এমন, যেন কোনও কারণে বেজায় বিরক্ত হয়ে রয়েছে সে। চেহারার অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যই এই ক্ষুদ্র প্রাণিটিকে এনে দিয়েছে পরিচিতি।
প্রাণিটি পরিচিত রেড হ্যান্ডফিশ নামে। আকারে এটি এতটাই ছোট যে একটি পূর্ণবয়স্ক রেড হ্যান্ডফিশ মানুষের বুড়ো আঙুলের কাছাকাছি মাপের হতে পারে। তবে তার সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রয়েছে পাখনায়।
সাধারণ মাছের মত সাঁতার কেটে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া রেড হ্যান্ডফিশের অভ্যাস নয়। তার বুকের ২ পাশের পাখনাগুলি বিবর্তনের ফলে অনেকটা ছোট হাতের মতো দেখতে হয়েছে। সেই পাখনায় ভর দিয়েই সমুদ্রের তলদেশের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগোয় মাছটি।
জলের মধ্যে সাঁতারের চেয়ে সমুদ্রের মাটিতে হাঁটতেই বেশি পছন্দ করে রেড হ্যান্ডফিশ। সেখান থেকেই এসেছে তার হ্যান্ডফিশ নামটি। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ দফতরও মাছটির হাতের মত পরিবর্তিত পাখনাকেই তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসাবে উল্লেখ করেছে।
তবে এই হাঁটার গতি মোটেও দ্রুত নয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১ বছরে একটি রেড হ্যান্ডফিশ যতটা এলাকা অতিক্রম করে, তা মোটামুটি একটি সাধারণ বাস্কেটবল কোর্টের দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি।
এই রেড হ্যান্ডফিশ পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার দক্ষিণ পূর্ব উপকূলের খুব সীমিত এলাকায়। মূলত সমুদ্রের তলায় পাথুরে রিফের কাছাকাছি বসবাস করে এই মাছ।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিবেশে বর্তমানে ২৫০টিরও কম রেড হ্যান্ডফিশ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রজাতিটি চরম বিপন্ন হিসাবে চিহ্নিত।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দূষণ, মানুষের কারণে বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আক্রমণাত্মক বহিরাগত প্রজাতির প্রভাব, সব মিলিয়ে রেড হ্যান্ডফিশের টিকে থাকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে।












