SciTech

সৌরমণ্ডল পার করে মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে এক ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীর গান, গর্বিত দেশবাসী

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে সুরশ্রী উপাধি দিয়েছিলেন। তাঁর অমোঘ কণ্ঠের গান এখন ভেসে বেড়াচ্ছে সৌরমণ্ডল ছাড়িয়ে মহাশূন্যে। ভারতবাসীর কাছে এ এক অনন্য পাওনা।

ভারতীয় কোনও সঙ্গীতশিল্পীর গাওয়া গান মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে। এ কি কম কথা! তাও আবার সে মহাশূন্য সূর্যের সংসারের মধ্যে নয়। ২০১২ সালেই সূর্যের সংসার অর্থাৎ সৌরমণ্ডলের সীমা পার করেছে সে গান।

এখন সে বহু বহু দূরে মহাজাগতিক নক্ষত্রমণ্ডলীর কোথাও একটা অবস্থান করছে এবং পৃথিবী থেকে আরও আরও দূরে চলে যাচ্ছে ৩৮ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে। ভারতীয়দের কাছে এ এক অনন্য পাওনা।

১৯৭৭ সালে পৃথিবী থেকে রওনা দেয় নাসার যান ভয়েজার ১। এই মহাকাশযান যে সৌরমণ্ডল পার করে আরও ছুটে যাবে তা তখনই স্থির ছিল। তাই ভয়েজার ১-এর মধ্যে একটি গোল্ডেন ডিস্ক রাখা হয়েছিল।

যার মধ্যে অনেক ছবি, ৫৫টি ভাষায় শুভেচ্ছাবার্তা, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গীত শিল্প সংস্কৃতির থেকে বেছে নেওয়া গান ও সুর স্থান পেয়েছিল।

এই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাছাই করা কিছু গানের মধ্যে স্থান হয় এক ভারতীয় নারীর মধুর সুরেলা কণ্ঠের। তিনি কেশরবাই কেলকর। যিনি ওই ডিস্কে মোৎজার্ট, বিটোফেন-এর সঙ্গে জায়গা করে নেন।

গোয়ায় জন্ম। তারপর জয়পুর আত্রাউলি ঘরানার শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম। কেশরবাই কেলকরের অসামান্য প্রতিভার স্বাক্ষর খুব দ্রুত সকলের সামনে আসে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে সুরশ্রী উপাধি দেন। তাঁর গাওয়া ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগ ভৈরবীর সুরে ‘জাত কাঁহা হো’ গানটি নির্বাচিত হয়েছিল ভয়েজার ১-এর গোল্ডেন ডিস্কের জন্য। যা আজও মহাশূন্যের কোথাও না কোথাও ভেসে চলেছে অনন্তের মাঝে।

এখানে মনে হতেই পারে এভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তের বাছাই সঙ্গীত ও সুরের ঝংকার কেন মহাশূন্যে প্রেরণ করা হল? একটাই আশা নিয়ে এই প্রচেষ্টা। যদি মহাশূন্যের অন্য কোথাও অন্য কোনও গ্রহের বাসিন্দারা এর খোঁজ পায় তাহলে তারা জানতে পারবে পৃথিবীর কথা। পৃথিবীর মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির কথা।

Show Full Article