গাছেরও পুরনো কথা মনে থাকে, মস্তিষ্ক বা স্নায়ু না থাকলেও তা সম্ভব বলে জানালেন বিজ্ঞানীরা
গাছের মস্তিষ্ক নেই। নেই স্নায়ুতন্ত্রও। তারপরেও প্রতিকূল পরিবেশের কথা তাদের দেহে অনেকদিন পর্যন্ত বজায় থাকে। তার বহিঃপ্রকাশও ঘটে।
একবছর ভয়ংকর খরা হল। মাটি শুকিয়ে গেল। জলের অভাবে বিপাকে পড়ল গাছ। তারপর এল বৃষ্টি, ডালপালা ভরে উঠন নতুন পাতায়। কিন্তু পুরনো খরার অভিজ্ঞতা কি সত্যিই মুছে গেল? বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, অন্তত কিছু গাছের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা গাছের স্মৃতিতে অনেককাল থেকে যায়।
আমেরিকার ইউটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা টানা ৩ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন কোয়েকিং অ্যাসপেন নামে একধরনের গাছ। তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন, একবছরের খরার প্রভাব পরের বছর জন্মানো পাতায় থেকে যায় কি না। আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায় আগের বছর জলের অভাবে ভুগলে পরের বছরের নতুন পাতার রাসায়নিক গঠনও বদলে যায়।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হল গাছের আত্মরক্ষা। পোকামাকড় কিংবা পাতা খেয়ে বেঁচে থাকা প্রাণিদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পাতায় বিশেষ রাসায়নিক তৈরি হয়। খরার পরে জন্মানো পাতায় সেই প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিকের পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। বদল এসেছে পাতার গায়ে বসবাসকারী ছত্রাকের গোষ্ঠীতেও।
কিন্তু আগের বছরের পাতাই যখন আর নেই তখন সেই পুরনো ঘটনার ছাপ নতুন পাতায় পৌঁছচ্ছে কীভাবে? গবেষকেরা মনে করছেন পরিবেশের চাপ গাছের শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনতে পারে যার প্রভাব দীর্ঘদিন টিকে থাকে।
গাছের কোনও মস্তিষ্ক নেই। নেই মানুষের মতো স্নায়ুতন্ত্রও। তবু অতীতের প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাব তার শরীরে কীভাবে রয়ে যেতে পারে সেই প্রশ্নই গবেষণাটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে এটিকে মানুষের মতো স্মৃতিশক্তি ভাবলে ভুল হবে। গাছ অতীতের ঘটনা সচেতনভাবে মনে রাখে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পূর্ববর্তী খরার একটি জৈবিক ছাপ পরের বছরেও থেকে যাওয়ার কথাই উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ফাইটোলজিস্ট পত্রিকায়।











