প্রজাপতির চোখের আজব রহস্য উদ্ঘাটন করলেন বিজ্ঞানীরা
প্রজাপতির চোখে রয়েছে অতিরিক্ত আলোকসংবেদী একটি কোষ। কীভাবে এই কোষ সৃষ্টি হয় আর হরেক রংয়ের ফারাক দেখার সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী, খোলসা করলেন বিজ্ঞানীরা।
একটি ফুল মানুষের চোখে যেমন দেখায়, প্রজাপতিও কি তেমনই দেখে? এককথায় উত্তর, না। কেননা প্রজাপতির চোখে লুকিয়ে আছে এমন একটি আশ্চর্য ব্যবস্থা, যা অনেক পোকামাকড়ের চোখে নেই।
মাছি কিংবা বহু পতঙ্গের চোখ আসলে অসংখ্য ক্ষুদ্র একক দিয়ে তৈরি। একে যৌগিক চোখ বলে। প্রতিটি এককে সাধারণত ৮টি আলোকসংবেদী কোষ থাকে। কিন্তু প্রজাপতির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা অন্যরকম। আরেকটি অতিরিক্ত কোষ তাকে নানা রঙের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। কীভাবে এল এই নবম কোষটি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান ডিয়েগোর বিজ্ঞানীরা। তাঁরা পেন্টেড লেডি প্রজাতির প্রজাপতিকে পরীক্ষা করে সনাক্ত করেছেন, তাদের চোখ সৃষ্টির সময় জিনগত কোনও পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত আলোকসংবেদী ওই কোষ তৈরি হয়।
শুধু প্রজাপতির চোখ পর্যবেক্ষণ করেই থেমে থাকেননি গবেষকেরা। পরীক্ষাগারে ফলের মাছির চোখ তৈরির জন্যে বিজ্ঞানীরা একই ধরনের জিনগত পরিবর্তন ঘটান। এতে দেখা গিয়েছে, ৮টির পরিবর্তে ৯টি আলোকসংবেদী কোষ তৈরি হয়েছে।
তবে চমক আরও ছিল। নতুন কোষ থেকে আসা সংকেত মস্তিষ্ক সামাল দেবে কীভাবে? গবেষকেরা দেখেছেন, মাছির স্নায়ুতন্ত্রে আগেভাগেই কিছু অতিরিক্ত স্নায়ুকোষ তৈরি হয়। সংযোগ না পেলেই সেগুলি নষ্ট হয়ে যায়।
নতুন আলোকসংবেদী কোষের সঙ্গে সংযুক্ত হলে ওই স্নায়ুকোষগুলি বেঁচে যায় এবং কাজ শুরু করে। অর্থাৎ চোখের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষমতা স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যেই আগে থেকে বজায় ছিল।
তবে পরিবর্তনের পরে মাছি প্রজাপতির মত বেশি রং দেখতে পায় কিনা, তা এখনও পরীক্ষানিরীক্ষার বিষয়। এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস পত্রিকায়।











