পাহাড়ে সেদিন যা ঘটেছিল তার কারণ জানালেন বিজ্ঞানীরা, লুকিয়ে ছিল একাধিক ইঙ্গিত
দুর্গম পাহাড়ে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার পিছনে লুকিয়ে ছিল একাধিক ইঙ্গিত। নতুন গবেষণায় সামনে এল অবাক করে দেওয়ার মত তথ্য।
চারদিকে উঁচু পাথুরে ঢাল। নীচে সমুদ্রের সরু জলপথ। সেখানে এক সকালে এমন ঘটনা ঘটেছিল যার চিহ্ন আজও পাহাড়ের গায়ে স্পষ্ট। সমুদ্রের জল উঠে গিয়েছিল প্রায় ৪৮১ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত।
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভোরে দক্ষিণ সয়্যার হিমবাহের কাছে পাহাড়ের বিরাট অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে জলে। মুহুর্তে বিপুল পরিমাণ পাথর আর মাটি জলকে ঠেলে দেয় বিপরীত পাহাড়ের দিকে। তৈরি হয় প্রবল সুনামি। ঘটনাটি আলাস্কার পাহাড়ঘেরা ট্রেসি আর্ম-এর।
সুনামির ধাক্কায় বহু উঁচু পর্যন্ত গাছপালা উপড়ে যায়। উন্মুক্ত হয়ে পড়ে পাথর। তবে ৪৮১ মিটার মানে সমুদ্রের ওপর সমান উচ্চতার ঢেউ নয়। এটি ঢাল বেয়ে জল ওঠার সর্বোচ্চ উচ্চতা। যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘রান-আপ’।
ভূমিধ্বসের অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার কম্পন পৃথিবীর নানা প্রান্তের ভূকম্পমাপক যন্ত্রে ধরা পড়ে। জলপথের ভিতরে দীর্ঘসময় ধরে দুলতে থাকে জল। বিজ্ঞানীরা পরে জানতে পারেন বিপর্যয়টি একেবারে বিনা ইঙ্গিতে আসেনি।
ঘটনার আগের ২ মাসে কাছের হিমবাহ আধ কিলোমিটারের বেশি পিছিয়ে গিয়েছিল। চলছিল ভারী বৃষ্টি। বৃষ্টির জল পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে চাপ বাড়াচ্ছিল। তার ওপর ধসের আগের কয়েক দিন ওই এলাকায় ধরা পড়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র কম্পন। একেবারে শেষদিকে সেই কম্পনের হার আরও বেড়ে যায়।
কয়েক ঘণ্টা আগেও পর্যটকবাহী জাহাজ ওই এলাকায় ছিল। ধসের সময় কাছাকাছি কোনও জাহাজ না থাকায় বড় বিপদ এড়ানো যায়। গবেষকদের মতে আবহাওয়া, হিমবাহের পরিবর্তন এবং কম্পনের তথ্য একসঙ্গে নজরে রাখলে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এমন সতর্কতা বিপদ সম্পূর্ণ দূর করতে পারেনা।











