এক মহাদেশের মরুভূমির দখল নিচ্ছে অন্য মহাদেশের প্রাণি, ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে
প্রাণিগুলি একটি মহাদেশের। সেখানে মরুভূমিতে তাদের বাস ছিল। কিন্তু এখন তারা হুহু করে ছড়িয়ে পড়ছে অন্য মহাদেশে। অন্য পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে তারা।
আমেরিকার মরুভূমিতে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার এক বিশাল প্রাণি। দেখতে অনেকটা হরিণের মতো। নাম জেমসবক। ওরিক্স নামেও পরিচিত এই হরিণগুলি। অথচ এদের আসল বাসস্থান আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমি। প্রশ্ন হল, এত দূরের আমেরিকায় তারা পৌঁছল কীভাবে?
গত শতকের ৬০ ও ৭০-এর দশকে শিকারের উদ্দেশ্যে জেমসবক আনা হয়েছিল আমেরিকার নিউ মেক্সিকোয়। তারপর থেকেই বদলাতে শুরু করে ছবিটা। নতুন পরিবেশে শুধু টিকেই থাকেনি তারা, বংশবৃদ্ধিও করেছে।
কিন্তু কেন এত সহজে কীভাবে অপরিচিত জায়গায় মানিয়ে নিতে পারছে এই আফ্রিকান প্রাণি? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রচণ্ড গরম আর খরা সহ্য করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে জেমসবকের। শরীরের প্রয়োজনীয় জলের অনেকটাই তারা সংগ্রহ করে গাছপালা থেকে। তাই সরাসরি জল না পান করেও দীর্ঘ সময় কাটাতে পারে। আমেরিকায় তাদের প্রাকৃতিক শত্রুর সংখ্যাও তুলনামূলক কম।
গবেষকেরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২১০০ সালের মধ্যে আমেরিকার আরও বহু এলাকায় জেমসবকের বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছে টেক্সাস, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া। এমনকি ওয়াশিংটন ও মন্টানার দক্ষিণাঞ্চলও। তবে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া মানেই প্রাণিগুলি সেখানে পৌঁছে যাবে, এমনও নয়।
গবেষকদের উদ্বেগ অন্যত্র। জেমসবকের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় তৃণভোজী প্রাণি এবং গবাদিপশুর সঙ্গে খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। মরুভূমির ঘাসজমির উপরেও পড়তে পারে বাড়তি চাপ।
একসময় মানুষের হাত ধরে আমেরিকায় পৌঁছেছিল আফ্রিকার এই প্রাণি। এবার জলবায়ু পরিবর্তন কি তাদের সামনে আরও বিশাল এলাকা খুলে দেবে? সেই সম্ভাবনাই নতুন করে খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।











