৭০ বছর ধরে দেখা নেই যে পাখির তাকে ফের দেখা গেল নতুন রূপে
প্রায় ৭০ বছর ধরে যার কোনও খোঁজ নেই সেই পাখিকে ঘিরেই এবার সামনে এল এমন এক ঘটনা যা অবাক করে দিয়েছে অনেককে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাঠঠোকরা। লম্বায় ৬০ সেন্টিমিটারেরও বেশি। অথচ প্রায় ৭০ বছর ধরে প্রকৃতিতে তার কোনও নিশ্চিত দেখা নেই। মেক্সিকোর ইম্পেরিয়াল উডপেকারকে তাই বিলুপ্ত বলেই মনে করেন বহু গবেষক।
১৯৫৬ সালে মেক্সিকোর সিয়েরা মাদ্রে অক্সিডেন্টাল পর্বতমালার জঙ্গলে শেষবার নিশ্চিতভাবে দেখা গিয়েছিল এই পাখিকে। সেই সময় তোলা পুরনো চলচ্চিত্রই জীবন্ত অবস্থায় তার চলাফেরার দুর্লভ প্রমাণ। তারপর দীর্ঘ নীরবতা।
তবে এবার প্রাণহীন পাখি থেকেই তাকে ফের নড়াচড়া করতে দেখালেন বিজ্ঞানীরা। অবশ্যই বাস্তবে নয়, কম্পিউটারের পর্দায়। আমেরিকার গবেষকেরা একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত স্ত্রী কাঠঠোকরার নমুনাকে ঘিরে কাজ শুরু করেন।
বিভিন্ন দিক থেকে তোলা হয় ২৮৮টি ছবি। ছবিগুলি বিশ্লেষণ করে তৈরি হয় পাখিটির ত্রিমাত্রিক অবয়ব। মাপজোক করা হয় ঠোঁট, মাথা, ডানা এবং লেজের।
সবচেয়ে কঠিন ছিল পালকগুলিকে বাস্তবসম্মত করে তোলা। তার জন্য জীবিত অন্য একধরনের কাঠঠোকরার পালকের গঠনও কাজে লাগানো হয়। পুরনো চলচ্চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয় ডানা ঝাপটানো, উড়ে যাওয়া এবং গাছ বেয়ে ওঠার ভঙ্গি।
মডেলে ডানার ১০টি প্রধান ও ১০টি গৌণ পালক, এমনকি লেজের ১২টি পালকও আলাদাভাবে নড়াচড়া করতে পারে। ফলে বহু দশক আগে হারিয়ে যাওয়া পাখিটিকে এবার ডিজিটাল জগতে নতুন করে দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের আশা এই ত্রিমাত্রিক মডেল গবেষণা ও শিক্ষায় কাজে আসবে। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দেবে বন ধ্বংসের জেরে কীভাবে পৃথিবী হারিয়ে ফেলতে পারে তার এক অনন্য বাসিন্দাকে।











