ঝড়বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল গাছ, খুলে গেল ভাগ্য, বৃদ্ধ পেলেন ২৮ লক্ষ টাকা, বিরল সম্মান
ঝড়বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে পড়া নতুন নয়। তা ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। কিন্তু এক বৃদ্ধের ঝড়ে গাছ পড়া ভাগ্য খুলে দিল। পেলেন ২৮ লক্ষ টাকা।
প্রবল ঝড়বৃষ্টির পর যেকোনও পুর এলাকায় গাছ ভেঙে পড়া একটা বড় সমস্যার কারণ হয়। রাস্তা আটকে পড়ে। মানুষের ওপর ভেঙে পড়ে প্রাণও কেড়ে নেয়। গাড়ি ভেঙে যায়। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে।
ঝড়বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতি নয়, এক বৃদ্ধের ভাগ্য খুলে গেল। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ পেলেন ২৮ লক্ষ টাকা। সঙ্গে পেলেন বিশেষ সম্মানও। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে।
সেখানকার বাসিন্দা এনজি কেশরীর এখন বয়স ৮৫ বছর। তাঁর যখন বছর ৪৫ বয়স তখন তাঁর বাড়ির বাগানে নিজে থেকেই একটি চারা গাছ মাথা তুলে দাঁড়ায়। মাটি পেলে অনেক গাছের বীজই প্রকৃতির নিয়মে সেই মাটিতে এসে পড়ে। তারপর সেখান থেকে গাছ হয়।
এই চারা গাছটিকে আগাছা ভেবে তিনি উপরে ফেলেও দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি সেটিকে বড় হতে দেন। যদিও তাঁর জানা ছিলনা গাছটি কিসের।
কিছুটা বড় হওয়ার পর কেশরী জানতে পারেন গাছটি চন্দন গাছ। চন্দন গাছটি যত বড় হতে থাকে ততই তার সুবাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তা প্রতিবেশিদের যেমন আনন্দ দেয়, তেমনই কাঠ চোরেরা গাছটি কীভাবে হাতিয়ে নেওয়া যায় তার পরিকল্পনা করতে থাকে।
তাদের নজর এসে পড়ে এই গাছে। কেশরী আর ঝুঁকি নেননি। তিনি গাছের চারধার দিয়ে লোহার মোটা বেড়া দিয়ে দেন। সর্বদা নজরেও রাখতেন গাছটিকে। নিয়মিত যত্নও করতেন।
এই গাছটির এখন বয়স ৪০ বছর। সম্প্রতি ঝড়বৃষ্টিতে অন্য একটি গাছ ভেঙে পড়ে এই চন্দন গাছটির ওপর। চন্দন গাছটি সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ভেঙে পড়ে।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ সেটিকে অন্য কোনওভাবে বেচার চেষ্টার পথে না হেঁটে বন দফতরকে খবর দেন। বন দফতর গাছটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় সরকারি চন্দন কাঠ ডিপোয়। ওজনে দেখা যায় গাছটির ওজন ১ মেট্রিক টন।
সেটি কিনে নেয় কর্ণাটক সোপস অ্যান্ড ডিটারজেন্টস লিমিটেড। সরকারি এই প্রতিষ্ঠান গাছটি কেনার পর এর দাম বাবদ কেশরীকে ২৮ লক্ষ টাকা দেয়।
এখানেই শেষ নয়। ৪০ বছর ধরে এই চন্দন গাছটিকে সযত্নে লালিত করার পুরস্কার হিসাবে এনজি কেশরীকে স্যান্ডালউড শিরোমণি সম্মানে ভূষিত করা হয়।














