দাবানল ঠেকাতে উড়ে যাবে জল, জঙ্গল বাঁচাতে অভিনব পথে হাঁটল এক রাজ্য
জঙ্গলে আগুন ছড়িয়ে পড়া রুখতে এবার একদম নতুন পথে হাঁটল একটি রাজ্য। মানুষ ও পশু উভয়কেই রক্ষা করতে নেওয়া হল বিশেষ ব্যবস্থা।
আবহাওয়া শুকনো হতে থাকলে, বৃষ্টিপাত কমে গেলে, গরম বাড়লে, ঘন জঙ্গলে অনেক সময় আগুন লেগে যায়। কেউ লাগিয়ে দেয়না। প্রাকৃতিক নিয়মেই এই আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
জঙ্গলে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়াতে থাকে। তা যেমন জঙ্গলের সবুজকে শেষ করে, তেমনই সেখানে বসবাসকারী পশুপাখিদের জীবন রক্ষা দায় হয়ে পড়ে। তারা পালানোর পথ পায়না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এমন দাবানল দেখার পর অনেক সময়ই জঙ্গলের দুর্গম স্থানে আগুন নেভানোর জন্য পৌঁছনোই সম্ভব হয়না।
বদলে যাওয়া আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিশূন্য পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা গরম ও শুকনো আবহাওয়ার কারণে তামিলনাড়ুর অনেক জঙ্গলে আগুন লাগার সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে। কয়েকটি এমন আগুন দেখার পর প্রমাদ গোনা শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে তারা।
সরকার এবার এমন দাবানল ঠেকাতে আকাশপথে জল নিয়ে গিয়ে ঢালার পথ খুলেছে। ভারী ওজন তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম ড্রোনকে এ কাজে ব্যবহার করা হবে। যা একবারে ১ টন জল তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম।
দুর্গম জঙ্গলে যেখানে আগুন লাগবে সেখানে এই জল নিয়ে গিয়ে ঢেলে দেবে ড্রোন। আকাশপথে আনা সেই জল ক্রমে আগুন নেভাতে পারবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এই বিশেষ বন্দোবস্ত আগামী দিনে তামিলনাড়ুর জঙ্গলগুলিতে দাবানল ঠেকাতে কার্যকরি ভূমিকা নিতে চলেছে।
জঙ্গলের আর এক সমস্যা হল জঙ্গলের প্রাণিরা লাগোয়া লোকালয়ে প্রবেশ করে। মানুষ ভয় পেয়ে তাদের বাধা দেয়। বেঁধে যায় সংঘর্ষ। এতে ২ পক্ষেরই ক্ষতি।
যাতে পশুরা লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে, মানুষের কাছাকাছি না আসতে পারে সেজন্য ইলেকট্রিক বেড়া দেওয়া ও কৃত্রিম উপগ্রহ কাজে লাগিয়ে পশুদের আনাগোনার ওপর নজরদারির পথেও হেঁটেছে তামিলনাড়ু সরকার। নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে মানুষ ও পশুদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













