National

হাড় কাঁপানো শীতে বরফে শুয়ে কাটান, গ্রীষ্মে কম্বল মুড়ে থাকেন, আজব মানুষ সন্তলাল

শীতে যখন আশপাশের মানুষ কাঁপছেন তখন তিনি বরফের চাঁইয়ের ওপর শুয়ে থাকেন। গ্রীষ্মে যখন ৪০ ডিগ্রির ওপর গরম তখন একাধিক কম্বল মুড়ে বসে থাকেন।

গ্রীষ্মে যেখানে গরম সাধারণভাবে ৪০ ডিগ্রির ওপর থাকে সেখানকার মানুষের গরমের কষ্ট মারাত্মক। শরীর ঠান্ডা করার জন্য বারবার স্নান, এসি, কুলার, ফ্যান সব কাজে লাগিয়েও গরম যেন কমতেই চায়না। গায়ে পাতলা পোশাক থাকলেও যেন গরম লাগে।

হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলার দেরোলি আহির গ্রামে গরমের সময় প্রবল গরম পড়ে। পারদ পৌঁছে যায় ৪৫ ডিগ্রিতেও। সেই সময় সেখানকার বাসিন্দা সন্তলাল ঠান্ডা অনুভব করতে থাকেন। যত গরম বাড়ে, ততই তাঁর ঠান্ডা লাগা বাড়ে। তাই একটা কম্বল মুড়িয়ে, মাথায় উলের টুপি পরেও তাঁর ঠান্ডা কমে না।

তাই অনেক সময় ৩-৪টে কম্বল একসঙ্গে গায়ে মুড়িয়ে নেন। সেখানেই শেষ নয়, পারদ আরও চড়লে তিনি ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহান।

অসহ্য গ্রীষ্মে কেউ যদি অনেকগুলি কম্বল গায়ে জড়িয়ে কাঠ জ্বালিয়ে তার সামনে বসে আগুন পোহান তাহলে তা দেখে সাধারণ মানুষের যে অনুভূতি হওয়ার কথা, ওই এলাকার মানুষের তাই হয়।

এতো গেল গরমের দিনের কথা। এবার আসা যাক শীতের দিনের কথায়। তিনি যেখানে থাকেন সেখানে ঠান্ডার দাপটও প্রচণ্ড। প্রবল ঠান্ডায় হাড় হিম হওয়ার জোগাড় হয় এখানকার মানুষের।

সেই অসহ্য ঠান্ডার মধ্যে সন্তলালের প্রবল গরম লাগতে থাকে। যত পারদ পতন হয়, যত ঠান্ডা বাড়ে সন্তলালের বরফ জলে স্নান করা, বরফের চাঁই কিনে তার ওপর একটানা শুয়ে থাকা ততই বাড়ে।

প্রবল ঠান্ডায় তাঁর গরম যেন কমতেই চায়না। কীভাবে শরীর ঠান্ডা করবেন তা বুঝে উঠতে পারেননা তিনি। এমন এক আশ্চর্য মানুষের জীবনে শীত গ্রীষ্মের অনুভূতিতে এমন উলটপুরাণের কারণ এখনও কারও কাছে স্পষ্ট নয়।

গবেষকেরা তাঁকে নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। সন্তলালের কথা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও গবেষকদের চর্চার বিষয়। প্রসঙ্গত সন্তলালের কথা প্রথম সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ২০১৮ সালে। সে সময় প্রবল ঠান্ডায় একটানা বরফের চাঁইয়ের ওপর শুয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি।

Show Full Article