Business

বর্ষা কম হলে ভারতীয় অর্থনীতি কি আদৌ চাপে পড়ে, উত্তর দিল নতুন তথ্য

বর্ষার ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদন। এটাই চিরাচরিত ধারনা। কিন্তু এখন কি আদৌ বর্ষার কমবেশি ভারতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। নতুন তথ্য অন্য কথা বলছে।

দেশে বর্ষা কেমন হবে তার ওপর ভারতীয় অর্থনীতি কতটা নির্ভরশীল এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে ২০০২ সালের একটি পরিস্থিতি দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

২০০২ সালে বর্ষা ঘাটতি হয়েছিল নজরকাড়া। সেবার ৮১ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছিল দেশে। ফলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে কৃষিজ উৎপাদনে। ফলন অনেকটাই কমে যায়। যার জেরে গ্রামীণ এলাকায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন আর্থিক দিক থেকে সমস্যায় পড়ে যান।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদল এসেছে। নানাভাবে সেই বদল হয়েছে। যেমন এখন জলসেচ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে দেশের অনেক কৃষিজমিতে বৃষ্টি কম হলেও জলের সমস্যা হচ্ছেনা। জল দেওয়া যাচ্ছে মাটিতে।

২০০০ সালে যেখানে ভারতের সম্পূর্ণ কৃষি জমির ৪২ শতাংশে জলসেচ সম্ভব ছিল, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে। বৃষ্টির ঘাটতিকে অনায়াসে পূরণ করছে ছড়িয়ে পড়া খাল ও টিউবওয়েল।

২০১৮-১৯ এবং ২০২৩-২৪-এ বর্ষা ঘাটতি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার জন্য ফলনে ঘাটতি হয়নি। বর্ষার জলের পরিপূরক জল সরবরাহ করেই সেই ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

সেই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে ফলনের ধরণ। যেমন ১৯৯০ সালে বর্ষার ওপর নির্ভরশীল খরিফ শস্য চাষ হত দেশের বছরভরের ফসলের ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের সিংহভাগ ফসল হত খরিফ শস্য হিসাবে।

এখন তা কমে খরিফ শস্য চাষ দেশের মোট ফলনের ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রবি শস্য চাষ অনেকটাই বেড়েছে সময়ের হাত ধরে। বছরের মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে কৃষি উৎপাদনের মাত্রা বেড়েছে।

তাই এখন আর ভারতে বর্ষা কম হওয়া খাদ্য সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়না। এমন নয় যে বর্ষা হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসেনা। বর্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তবে যদি বর্ষা ঘাটতি হয়, তাহলে তা মোকাবিলা করার মত পরিকাঠামো এখন ভারতে তৈরি হয়ে গেছে। যা ভারতীয় কৃষি ও ভারতীয় অর্থনীতির প্রবল বর্ষা নির্ভরতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article