National

দেশি ফ্রিজে সব খাবার থাকে টাটকা, লাগেনা বিদ্যুৎ, দেখতে একটা ছোট কুঁড়েঘরের মত

বৈদ্যুতিক ফ্রিজ নয়। এ ফ্রিজ বিদ্যুতে চলেনা। মোটা অঙ্কের বিলেরও ঝক্কি নেই। অথচ খাবার থাকে টাটকা এবং ঠান্ডা। দেশি ফ্রিজের তুলনা মেলা ভার।

ভারতে ফ্রিজের প্রয়োজন প্রশ্নাতীত। এদেশে অধিকাংশ সময়ই গরম থাকে। ফলে খাবার থেকে ফল, সবজি, মাছ, মাংস সবই নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত। সেগুলিকে ঠিক রাখতে ফ্রিজ ছাড়া গতি নেই। যে কোনও ভারতীয় পরিবারেই একটি ফ্রিজ থাকে।

কিন্তু যখন ফ্রিজ ছিলনা, তখন রাজস্থানের ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত ছোঁয়া গরমে খাবার ঠিক থাকত কীভাবে? এখানে গ্রামে গ্রামে কিন্তু মানুষের খাবার টাটকা ও সতেজ রাখা কোনও সমস্যা ছিলনা। সে যত গরমই পড়ুক না কেন।

১০০ বছর আগেও রাজস্থানের গ্রামে গ্রামে ব্যবহার হত দেশি ফ্রিজ। যা দেখতে একটা ছোট্ট কুঁড়েঘরের মত। তবে এর ভিতর মানুষ থাকেন না। থাকে খাবার, ফল, সবজি, দুধ, দই।

দেশি ফ্রিজ তৈরি করতে লাগত প্রধানত ৩টি উপাদান। মাটি, গোবর আর খিপরা ঘাস। খিপরা ঘাস হল একটু বড় আকারের একধরনের ঘাস। যা দিয়ে এই দেশি ফ্রিজের মাথাটা ছাওয়া হত। আর তার কুঁড়েঘরের মত দেখতে চারধার তৈরি হত মাটি আর গোবর দিয়ে।

যার ভিতরে অনেকসময় ভেজা বালি রাখা হত। এতে ওই কুঁড়েঘরের ছোট্ট ভিতরটা থাকত ঠান্ডা। চালাটা ঘাস দিয়ে ছাওয়া থাকায় আগুনে গরমও প্রবেশ করতে পারত না ভিতরে।

আর গা-টা গোবর আর মাটি লেপা হওয়ায় ভিতরটা ঠান্ডা থাকত। আর এভাবেই রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ দিনের পর দিন তাঁদের খাবারকে সতেজ ও টাটকা রেখেছেন।

এখন সেই দেশি ফ্রিজ আবার ফিরছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা করা মানুষকে আকর্ষিত করছে। ফলে অনেক বাড়িতে জায়গা থাকলে এমন দেশি ফ্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। ফ্রিজ কেনার সামর্থ্য থাকলেও।

Show Full Article