National

মৌমাছির আওয়াজ থেকে ত্রিস্তরীয় বন্দোবস্ত বাঁচিয়ে দিল ২৫৫টি হাতিকে

২০২৬ সাল এখনও শেষ হয়নি। এরমধ্যেই ২৫৫টি হাতির জীবন বাঁচাল রেলের ৩টি বিশেষ উদ্যোগ। যার মধ্যে মৌমাছির আওয়াজ করা যন্ত্রও রয়েছে।

জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ট্রেনের সামনে হাতি এসে পড়া। হাতির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা। তার জেরে হাতিদের জীবন যাওয়া। এমন ঘটনা প্রতিবছর আকছার শোনা যেত। যা রেলের জন্য উদ্বেগের কারণ হচ্ছিল।

এত হাতির বেঘোরে জীবন যাওয়া কীভাবে আটকানো যায় তা নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা চিন্তা চলছিল। অবশেষে ২০২৬ সালে এ ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেল নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেল। পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম মিলিয়ে এ বছর এখনও পর্যন্ত ২৫৫টি হাতির নিশ্চিত জীবন যাওয়া আটকেছে এনএফআর।

হাতি রক্ষায় রেল মূলত ৩টি বিষয়কে হাতিয়ার করেছে। একটি হল প্রযুক্তি নির্ভর একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ। দ্বিতীয় হল জঙ্গলে রেললাইনে নজরদারি বাড়ানো। তৃতীয় হল বন দফতর ও রেলের মধ্যে অনেক নিবিড় সমন্বয় সাধন।

প্রযুক্তি নির্ভরতার ক্ষেত্রে হাতি রেললাইনের কাছেও আছে কিনা তা জানতে এআই নির্ভর প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। হাতি রেললাইনের কাছে আছে জানতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে রেল। ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে সঙ্গে সঙ্গে। এছাড়া প্ল্যান বি অর্থাৎ মৌমাছি পরিকল্পনা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে।

জঙ্গলের যেখানে যেখানে রেললাইন গেছে এবং যেখান দিয়ে হাতি আনাগোনা বেশি, সেখানে সেখানে এই যন্ত্র বসানো হয়েছে। সেখান থেকে মৌমাছির ভনভন আওয়াজ বার হয়। এই আওয়াজ শুনলে হাতিরা মৌমাছির ঝাঁক রয়েছে ভেবে ওই দিক এড়িয়ে চলে। তাতে তাদের রেললাইনের ওপর এসে পড়া আটকানো সহজ হয়েছে।

এনএফআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে হাতি ও ট্রেনের ১০৬টি ধাক্কার সম্ভাবনা রোখা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে অসমের রঙ্গিয়ায় ১৪টি, লামডিং-এ ১২২টি এবং তিনসুকিয়া ডিভিশনে ১৫টি এমন সম্ভাবনা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article