১৬৪ বছর পার, অন্য মুকুটে উজ্জ্বল ব্যারাকপুর স্টেশন, পালিত হল স্টেশন মহোৎসব
দেশের কয়েকটি হাতেগোনা স্টেশনেই পালিত হচ্ছে স্টেশন মহোৎসব। যে তালিকায় ১৬৪ বছর পার করা ব্যারাকপুর স্টেশন রয়েছে। ইতিহাসের সাক্ষী এই স্টেশন পেল ঐতিহ্যের অনন্য মুকুট।
সদা ব্যস্ত ব্যারাকপুর স্টেশন। যে স্টেশন কেবল একটি রেলস্টেশন নয়, একটা ইতিহাস। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম ধারক ও বাহক।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৭২ সালে ব্যারাকপুরে সেনা ছাউনি তৈরি করে। যেটি আক্ষরিক ভাবে সেনা ছাউনির মর্যাদা পায় ১৭৭৫ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের ঘোষণায়।
এই সেনা ছাউনিতেই হয় ১৮২৪ সালের ব্যারাকপুর মিউটিনি বা বিদ্রোহ। সেদিন এখানে একটি সেনাদল তৎকালীন বার্মায় প্রথম অ্যাংলো বার্মিজ যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করে।
সেই ব্যারাকপুর বিদ্রোহকে অস্ত্র দিয়ে দমন করে ব্রিটিশরা। এরপর ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুরে জন্ম নেয় মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে সিপাহী বিদ্রোহ। যাকে ঐতিহাসিকদের একাংশ দেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসাবে চিহ্নিত করেন।
এমন সব ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ব্যারাকপুর স্টেশন তৈরি হয় ১৮৬২ সালে। ব্যারাকপুর থেকে ক্যালকাটায় যাতে সহজে সেনা নিয়ে আসা যায়, অস্ত্র নিয়ে আসা যায়, সেটা মাথায় রেখে তৈরি হয় এই স্টেশন। যা পার করল ১৬৪ বছর।
ভারতের ১০০ পার করা ১০৩টি এমন ঐতিহাসিক স্টেশনকে বেছে নিয়ে শুরু হয়েছে স্টেশন মহোৎসব। যেখানে স্টেশনটির ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব সকলের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। রঙিন অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেজে উঠছে স্টেশন।
ব্যারাকপুর স্টেশনেও পালিত হল এই স্টেশন মহোৎসব। যেখানে স্কুলের পড়ুয়া থেকে অনেকেই অংশ নিলেন। অনুষ্ঠান হল। ভিডিও দিয়ে প্রদর্শিত হল ব্যারাকপুর স্টেশনের ইতিহাস।
অবশ্যই এই সম্মান ব্যারাকপুর স্টেশনের প্রাপ্য। ১৬৪ বছর পার করা এই স্টেশন এখন আর শুধু একটা রেলস্টেশন নয়, একটা সুদীর্ঘ ইতিহাসের ধারক ও বাহকও।












