বিশ্বকর্মা পুজোয় বাংলার এক জায়গায় বিশ্বকর্মার পুজো হয়না, হয় হাতি পুজো
বিশ্বকর্মা পুজো বাংলা জুড়েই পালিত হয়। তবে এই বাংলায় একটি এমন জায়গা রয়েছে যেখানে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বিশ্বকর্মা নয়, হাতি পুজো হয়।
যেখানে যন্ত্র, নির্মাণ বা কোনও কিছু তৈরি হচ্ছে, সেখানেই বিশ্বকর্মা পুজো হয়ে আসছে। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন যুগ যুগ ধরেই বিশ্বকর্মা পুজো চলে আসছে। যে পুজো বাংলার মানুষের মনে দুর্গাপুজোর সুর বেঁধে দেয়।
সারা বাংলা যখন বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতে ওঠে তখন কিন্তু বাংলার একটি প্রান্তে বিশ্বকর্মা নয়, হয় হাতি পুজো। যাকে স্থানীয়রা মহাকাল বাবা-র পুজো বলে ব্যাখ্যা করেন। সেখানে পূজিত হয় হাতি।
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ধারে রামশাই এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে এই হাতি পুজো চলে আসছে। বাংলা বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতে উঠলেও এখানে সেদিন হাতি পুজো হয়।
এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকাই কৃষিকাজ। এই কৃষিকাজের মধ্যে আবার ধান ও ভুট্টা চাষ প্রধান। মাঠে যখন ফসল পাকে তখন এঁরা তটস্থ থাকেন। মানুষের ভয়ে নয়, হাতির পালের ভয়।
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে হাতির পাল যদি ক্ষেতে ঢুকে পড়ে তবে এতদিন ধরে যত্ন করে তৈরি ফসল একদিনে তছনছ করে দেবে। বাড়িঘরও ভেঙে দেয় হাতির পাল। ফলে হাতি নিয়ে একটা আতঙ্ক কাজ করে এলাকাবাসীর মনে।
তাঁদের বিশ্বাস হাতিকে ফসল ও তাঁদের জনবসতি থেকে দূরে রাখতে হলে মহাকাল বাবার পুজো করতে হবে। হাতির ওপর বসে এক পুরুষ মূর্তি হল মহাকাল বাবা। এই পুজো হলে হাতিরা আর ফসল নষ্ট করবে না বলে বিশ্বাস করেন রামশাই এলাকার মানুষ।
সেই বিশ্বাস থেকেই এই পুজো। তবে এখানে বলে রাখা ভাল মহাকাল বাবার পুজোর কোনও তিথি নেই। ফলে বছরের অন্য সময়ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় মহাকাল বাবার পুজো হয়। রামশাই অঞ্চলে অবশ্য বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই হয় মহাকাল বাবার পুজো।











