Kolkata

খালবিল বোজানোর জেরে ধুঁকছে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শোলা শিল্প, মা দুর্গার সাজে ভাটার টান

পরিকাঠামো তৈরির জন্য, তো কখনও অন্য কোনও কারণে খালবিল বুজিয়ে দেওয়া অব্যাহত। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিমার সাজ হিসাবে ব্যবহৃত প্রাচীন শোলা শিল্পে।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। সেই দুর্গাপ্রতিমাকে সাজিয়ে তোলার জন্য, তার অঙ্গসজ্জার জন্য শোলার তুলনা মেলা ভার। তবে সময়ের সাথে শোলার কাজে ভাটার টান। তার একটি বড় কারণ হল শোলার অপ্রতুলতা ক্রমশ বৃদ্ধি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে প্রতিষ্ঠিত মৃৎশিল্পীদের পল্লি কুমোরটুলিতে বর্তমানে বিপন্ন শোলা শিল্পীরা। কারণ শোলার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগান নেই। খালবিল বুজিয়ে দেওয়া অব্যাহত। ফলে শোলা পাওয়া মুশকিল হচ্ছে।

১১০ বছর আগে ১৯১৬ সালে আশুতোষ মালাকার নামে এক ব্যক্তি ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে কুমোরটুলিতে শোলার কাজ সর্বপ্রথম শুরু করেন। আশুতোষবাবুর হাতে তৈরি শোলার দুর্গাপ্রতিমাই প্রথম পূজিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং লন্ডনে। শোলার সাজশিল্পী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পান তিনি।

কুমোরটুলিতে ১৯১৬ সালে তৈরি আশুতোষ মালাকারের দোকানের নাম শোলা শিল্প মন্দির। সেই দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করেন আশুতোষ মালাকারের পুত্র এবং পৌত্র।

কুমোরটুলির প্রগতিশীল মৃৎশিল্পী ও সাজশিল্পী সমিতির কর্মকর্তারা জানালেন, একসময়ে কুমোরটুলিতে শোলা আনা হত পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলা থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও আমদানি করা হত শোলা।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ২০ বছর আগেও শোলার জোগানে এমন টান লাগেনি। বর্তমানে সেই শোলার জোগান তলানিতে। ফলে হাতেগোনা দুর্গাপ্রতিমায় শোলা ব্যবহার সম্ভব হয়েছে ২০২৬ সালে।

শোলার দাম হুহু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বান্ডিল প্রতি শোলার দাম এখন ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। শোলা ব্যবসায়ীদের দাবি, শোলার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কারিগরদের মজুরি ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা ক্ষতির মুখে।

তারপরেও মালাকারদের তৈরি শোলার প্রতিমা এ বছর পাড়ি দিয়েছে লন্ডন এবং ইতালিতে। তবে উচ্চতায় আপস করতে হয়েছে। ১ ফুট থেকে ২ ফুট কমানো হয়েছে প্রতিমার উচ্চতা।

Show Full Article