১৩৮ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে বেঁচে রয়েছে নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত এই লাইব্রেরি
ডিজিটাল যুগে বই পড়ার মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। শহরের অনেক গ্রন্থাগারই বন্ধ। এরমধ্যেই নিজের মত করে বেঁচে রয়েছে ১৩৮ বছর পার করা একটি লাইব্রেরি।
কথায় বলে, যদি একদিনের আনন্দ পেতে চান, তবে ভোজন করুন। যদি একবছরের আনন্দ পেতে চান, তবে বিয়ে করুন। আর যদি সারাজীবনের আনন্দ পেতে চান, তাহলে বই পড়ুন। কিন্তু বইপাঠের অভ্যাস ক্রমাগত কমছে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করায়।
গল্প, উপন্যাস, কবিতা, দর্শন সহ জ্ঞানচর্চার রহস্য লুকিয়ে আছে নানান বিষয়ের বইয়ের পাতায়। সে মুখো হচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। কলকাতায় একসময়ে গ্রন্থাগারগুলিতে পাঠক পাঠিকারা নিয়মিত যেতেন পছন্দসই বইয়ের খোঁজে।
সে দিন ফুরিয়েছে। নবীন প্রজন্ম কতজন প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিকের হাতেগোনা লেখা পাঠ করেছে তা নিয়ে সমীক্ষা হলে হলফ করে বলা যায় ফলাফল অবশ্যম্ভাবী ভাবে নেতিবাচক।
এই পরিস্থিতিতেও হিমশৈলের চূড়ার মতো কলকাতার বেলেঘাটার একটি লাইব্রেরি ১৩৮ বছর ধরে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। নারকেলডাঙা স্কুল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই লাইব্রেরির নামও ব্যতিক্রমী। সুবার্বন রিডিং ক্লাব।
লাইব্রেরির কর্ণধারদের অন্যতম জয়ন্ত কুমার বসু প্রসঙ্গটি তুললেন। তাঁর মতে, লাইব্রেরিতে পুরনো সভ্যরা স্থানীয় নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতেন। তাঁরা মনে করতেন না সমাজে গ্রন্থকীটের সংখ্যা হুহু করে বৃদ্ধি পাক। একারণে ক্লাব শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল সেই ১৩৮ বছর আগেই।
সুবার্বন রিডিং ক্লাবের একতলায় নানা বিষয়ের বইয়ের সম্ভার। ত্রিতল ভবনের অন্য ২টি তলে অডিটোরিয়াম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা ক্লাব সদস্যদের মিলিত হওয়ার স্থান ওই ২ অডিটোরিয়াম। অসংখ্য লাইব্রেরি বর্তমানে ধুঁকছে। অন্যদিকে সুবার্বন রিডিং ক্লাবের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৬০০ জনের কাছাকাছি।
বাংলা বইয়ের পাশাপাশি প্রাচীন এই রিডিং ক্লাবে রয়েছে ইংরাজিতে লিখিত সাহিত্য, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে নানাধরনের বইপত্র। মাসিক চাঁদা নামমাত্র।
শিশুরা দেশের ভবিষ্যতের কারিগর, এজন্য লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ শিশুসাহিত্যের বই নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করছে। সুবার্বন রিডিং ক্লাবে এ মুহুর্তে শিশু ও কিশোর সাহিত্যের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক। এই লাইব্রেরিতে পদধূলি পড়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুরও। সালটা ছিল ১৯৩৯।











