Kolkata

এশিয়ার একমাত্র গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটি রয়েছে খাস কলকাতায়, চাইলে ঘুরেও আসতে পারেন

এশিয়ায় গ্রিকদের সমাধিক্ষেত্রের কথা যদি বলা হয় তাহলে তা রয়েছে এই কলকাতায়। যা একটা দীর্ঘ ইতিহাস বহন করছে। চাইলে এটি সহজেই দেখে আসতে পারেন।

২৬ কাঠা জমির উপর নির্মিত হয়েছে এশিয়ার একমাত্র গ্রিক সমাধিক্ষেত্র। যার প্রবেশের মুখে রয়েছে একটি লোহার গেট। গেট পেরিয়েই সার সার সমাধি। এখানে কম করেও ২০০টি সমাধি রয়েছে। সমাধিক্ষেত্রটির একজন কেয়ারটেকারও রয়েছেন।

বর্তমানে কলকাতার গ্রিক চার্চ কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রিক সমাধিক্ষেত্রের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ন্যস্ত। তবে স্বাধীনতার পর গ্রিকরা ভারত থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। গ্রিকদের বসবাসের সাক্ষী এই সমাধিক্ষেত্র কলকাতার প্রাচীন ইতিহাসের অঙ্গ। এশিয়া মহাদেশে গ্রিকদের আর কোনও সমাধিক্ষেত্র কিন্তু নেই। আছে একটিই মাত্র। আর তা রয়েছে এই খাস কলকাতায়।

ফুলবাগান মেট্রো সংলগ্ন এলাকায় এশিয়ার একমাত্র গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটি অবস্থিত। নারকেলডাঙা মেন রোড ধরে ফুলবাগানের মুখে পৌঁছে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবেন গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটি। যদিও এ শহরে যে একটি গ্রিক সমাধিক্ষেত্রও রয়েছে সে তথ্য অনেক শহরবাসীর কাছেই নেই।

২৬ কাঠা জমির উপর এই গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটি গড়ে উঠেছিল অষ্টাদশ শতকের শেষাশেষি সময়ে। ওয়ারেন হেস্টিংস গভর্নর জেনারেল থাকাকালীন ১৭৮১ সালে কলকাতায় নির্মিত হয় একটি গ্রিক চার্চ।

তার আগেও অবশ্য কলকাতায় আরেকটি গ্রিক চার্চের অস্তিত্ব ছিল। সেটি নির্মিত হয় ১৭৫২ সালে। ফুলবাগানে বর্তমানে যে গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটি রয়েছে ইতিহাস ঘেঁটে জানা যাচ্ছে সেটি ১৭৭৭ সালে নির্মিত হয়েছিল।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, রাশিয়া এবং অটোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গ্রিকরা কলকাতায় আসতে শুরু করেন। সময়টা ছিল ১৭৬৮ থেকে ১৭৭৮ সাল। ভাগ্যান্বেষণের জন্য উদ্বাস্তু হিসেবে গ্রিকরা কলকাতায় আসেন। এরপর ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করেন এবং তাতে সাফল্যলাভও করেন।

বিগত রাজ্যসরকার ফুলবাগানের গ্রিক সমাধিক্ষেত্রটিকে গ্রেড ওয়ান হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের তকমা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রিকরা যে সময় কলকাতায় আসা শুরু করেন, সেসময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বুকে চুটিয়ে ব্যবসা করছে।

গ্রিকরা কলকাতায় আসার পর জাহাজ নির্মাণের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তাতেই সাফল্য। কলকাতায় জমিয়ে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। ফলে তাঁদের জীবনাবসানের পর সমাধিস্থ করার জন্য একটি সমাধিক্ষেত্রের দরকার ছিল। সেটা সে সময় তৈরি হয়েছিল এই ফুলবাগানের মোড়ে। এখন জনবহুল এই এলাকায় যে এমন এক প্রাচীন ইতিহাস একাকী নীরবে অবস্থান করছে, তা বহু মানুষেরই অজানা।

Show Full Article