Durga Pujo

৩১৩ বছরের দুর্গাপুজোয় গণেশের জায়গা বদল, মহিষ নেই, ষষ্ঠীর পান্তাভাতে ইলিশ

ঠিকানা বদলায়। বদলায় না মাতৃ আরাধনার নিয়ম থেকে পরম্পরা। ঢাকা থেকে দমদমে চলে আসা ৩১৩ বছরের চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন দুর্গাপুজো আজও রীতির বন্ধনে আবহমান।

অর্ণব দত্ত, কলকাতা : ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক দুর্গাপুজো। যার শুরু বাংলাদেশের মাটিতে। আর আজ তার আয়োজন কলকাতার দমদমে। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসা, সবকিছুর মধ্যেও অটুট রয়ে গিয়েছে চৌধুরী পরিবারের মা দুর্গার আরাধনা।

৩১৩ বছর আগে অবিভক্ত ভারতের ঢাকার কলাকোপা গ্রামে এই পুজোর সূচনা করেছিল জমিদার চৌধুরী পরিবার। একসময় কৃষিসামগ্রির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন চৌধুরীরা।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরেও সেখানে পুজো চলেছে। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় চলে আসেন। তারপর নতুন ঠিকানায় বেঁচে থাকে বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য।

এখন পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা দন্তচিকিৎসক মনোজ চৌধুরী। দমদমের এম এম ঘোষ রোডে তাঁর বাড়িতে চলছে আয়োজন। তবে এই পুজোর প্রতিমা সাধারণ সাবেকি প্রতিমার থেকে কিছুটা আলাদা। মা দুর্গার বাঁদিকে থাকেন গণেশ, ডানদিকে কার্তিক। অসুর থাকলেও মহিষ থাকে না।

এই পুজোয় একসময় মোষবলি দেওয়া হত। পরে শুরু হয় পাঁঠাবলি। বহু বছর আগেই অবশ্য পশুবলি বন্ধ হয়েছে। জন্মাষ্টমীর দিন থেকে শুরু হয় প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ। এবারের প্রতিমা গড়েছেন কুমোরটুলির শিল্পী মুরারীমোহন পাল। প্রতিমা ও অন্যান্য আয়োজন মিলিয়ে পুজোর খরচ লক্ষাধিক টাকা।

মনোজবাবুর কথায়, তাঁদের পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের অনেকেই আজ প্রয়াত। তবু পূর্বপুরুষের নিয়মগুলি ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবারের খাবারের রীতি।

ষষ্ঠীর সকালে পান্তাভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ খেয়ে মৎস্যমুখ করেন চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা। আর দশমীতে কাতলা মাছ ভাজা খাওয়ার প্রথা চলে আসছে ৩ শতাধিক বছর ধরে। দেশ বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে। কিন্তু মা দুর্গাকে ঘিরে চৌধুরী পরিবারের এই পুজোয় আজও জীবন্ত ৩ শতাব্দীর স্মৃতি।

Show Full Article