অন্য উচ্চতা ছুঁল বাংলার জলভরা সন্দেশ, জামাই ঠকানো মিষ্টি গর্বিত করল বাঙালিকে
বাংলার সন্দেশ জগৎবিখ্যাত। সেই সন্দেশের জগতে আবার জলভরা সন্দেশের বেজায় কদর। সেই জলভরা এবার আরও এক উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলল।
চন্দননগরের জলভরা সন্দেশের নাম তো সকলের জানা। বলা হয় চন্দননগরের সূর্য মোদকের হাত ধরেই জন্ম হয় জলভরা সন্দেশের। উপর থেকে নরম বা কড়া পাক। উপর থেকে সন্দেশ। কিন্তু কামড় দিলে সন্দেশের ভিতরে ভরা থাকে নলেন গুড়।
এই গুড়ের কারণেই এই সন্দেশের নাম জলভরা। জলভরা মানে সত্যিই সন্দেশের মধ্যে জল ভরা থাকেনা। থাকে প্রধানত নলেন গুড়। অনেকসময় আবার গোলাপ জলও ভরা থাকে।
চন্দননগরের সেই জলভরা সন্দেশ এবার পেয়ে গেল জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই ট্যাগ। যা এই বিখ্যাত মিষ্টিকে আরও বিখ্যাত করে তুলল।
চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ এমনিতেই জনপ্রিয় একটি মিষ্টি। বাংলার বিখ্যাত সন্দেশের তালিকার প্রথম সারিতে থাকে জলভরা। দেশি, বিদেশিদের কাছে বাংলার মিষ্টি হিসাবে জলভরার কদরই আলাদা।
সেই জলভরা জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল। যা এই সন্দেশের ব্যবসায়িক চাহিদাকে আরও উপরে তুলে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
জলভরার সৃষ্টি নিয়ে একটি কাহিনি প্রসিদ্ধ। একসময় এক ধনী জমিদারের স্ত্রী ও অন্যরা তাঁদের নতুন জামাইয়ের সঙ্গে মজা করার জন্য এক বিশেষ মিষ্টি তৈরির আবদার করেছিলেন।
জমিদার সেকথা চন্দননগরের বিখ্যাত সূর্য কুমার মোদককে জানান। তখন সূর্য মোদক একটি নতুন মিষ্টির জন্ম দেন। যাকে সে সময় জামাই ঠকানো মিষ্টিও বলা হত। কারণ জামাই তো সন্দেশ ভেবে তাতে কামড় বসাবেন। আর কামড় দিলেই তাঁর পোশাকে ঝরে পড়বে ভিতরে থাকা তরল নলেন গুড়। এতে জামাইয়ের সঙ্গে বেশ একটা মধুর দুষ্টুমিও করা হবে। এভাবেই জন্ম নেয় জলভরা সন্দেশ।
জলভরা জিআই ট্যাগ পেয়ে যাওয়া মানে তার কোথায় উৎপত্তি এবং তার জন্মদাতার আলাদা স্বীকৃতি। জিআই মানে বিশ্বজুড়েও চন্দননগরের জলভরা পেল আলাদা সম্মান ও পরিচিতি। এই স্বীকৃতি জলভরার পরম্পরা এবং তার সঙ্গে বাংলার মাটির যোগ আরও নিবিড় করল।













