State

বাংলায় পালাবদল, রাজ্যে শুরু নতুন অধ্যায়, গেরুয়া ঝড়ে শেষ হল ১৫ বছরের তৃণমূল যুগ

পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার এবার বিজেপির হাতে। এই প্রথম বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এল। গেরুয়া ঝড়ে শেষ ১৫ বছরের তৃণমূল জামানা।

রাজ্যে পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন? এ প্রশ্ন মুখে মুখে ঘুরছিল। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল গিয়েছিল বিজেপির পক্ষে। আর তা যে ভুল ছিলনা তা প্রমাণ হয়ে গেল সোমবার। রাজ্যে পালাবদল যে হতে চলেছে তা সোমবার যত বেলা গড়িয়েছে ততই পরিস্কার হয়ে গেছে।

লাফিয়ে বেড়েছে বিজেপির বিভিন্ন আসনে এগিয়ে থাকার অঙ্ক। তৃণমূলের এগিয়ে থাকার সংখ্যা কমতে থেকেছে। ২ অঙ্ক থেকে ৩ অঙ্কে মাঝেমধ্যে পৌঁছলেও তা ক্ষণস্থায়ী হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার পর থেকেই বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রের সামনে বিজেপি কর্মীদের আনন্দ উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝে কিছুটা সময় পিছিয়ে থাকলেও পরে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যান। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারী কিন্তু সকাল থেকেই এগিয়ে থেকেছেন।

কলকাতার কেন্দ্রগুলিতে এতদিন ধরে চলে আসা তৃণমূলের দাপট এবার ভেঙে পড়েছে। শশী পাঁজা, শ্রেয়া পাণ্ডে, অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমারের মত নেতারা ক্রমশ সময়ের সঙ্গে পিছিয়ে পড়তে থাকেন।

দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে জানান তাঁরা যেন ভেঙে না পড়েন। সূর্য ডোবার পর তাঁরাই জিতবেন। গণনা কেন্দ্র না ছাড়ার বার্তাও দেন। তবে সময় যতই দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে গেছে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসন সংখ্যা বাড়তেই থেকেছে।

যা দেওয়াল লিখন আরও স্পষ্ট করে দেয়। এবার যে বাংলার মানুষ বিজেপির শাসনকে স্বাগত জানিয়েছেন তা এই প্রবণতা থেকেই পরিস্কার হয়ে যায়। জয় নিশ্চিত বুঝে দুপুরের পর থেকেই বিজেপি কর্মী সমর্থকরা আনন্দে মেতে ওঠেন। বিলি হতে থাকে ঝালমুড়ি ও কমলা ভোগ। বিলি হয় লাড্ডুও।

এসআইআর-এর পর তৃণমূলের দাবি ছিল এসআইআর তৃণমূলের জয়ের রাস্তা পরিস্কার করল। বাস্তব কিন্তু উল্টো কথাই বলল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের একাংশের প্রকাশ্য দম্ভ ও দাপট প্রদর্শন, বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়ানো, দলের মধ্যেই অন্তর্দ্বন্দ্ব, এসবেরই প্রভাব গিয়ে ভোটবাক্সে পড়েছে। অনেক ভোটারই মনে করেছেন ৫ বছরের জন্য বিজেপিকে এনে দেখা যাক যদি রাজ্য তথা রাজ্যবাসীর উন্নতি হয়। এসব কিছুর প্রতিফলন ঘটেছে ভোটবাক্সে।

Show Full Article
nilkantho.in app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *