যত স্থূল চেহারা, ততই সুন্দর পুরুষ, বাৎসরিক উৎসবে বেছে নেওয়া সবচেয়ে মোটা পুরুষকে
আশ্চর্য এই পরম্পরা। যেখানে সারা বিশ্বের পুরুষ সুঠাম দেহ পেতে পরিশ্রম করেন, সেখানে একটি পরম্পরায় সবচেয়ে বড় ভুঁড়ির মানুষটিই সমাজের সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ হিসাবে বিবেচিত হন।
যেখানে গোটা বিশ্বের পুরুষ সুঠাম দেহ পেতে জিম, শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক খাবার, সঠিক জীবনযাত্রায় জোর দেন, প্রয়োজনে সুঠাম সুগঠিত দেহ পেতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, সেখানে পৃথিবীর এক প্রান্তে চলে অন্য অধ্যবসায়।
এটি একটি সম্প্রদায়ের কথা। নাম বোদি। এই বোদি সম্প্রদায়ে যত মোটা বা স্থূল পুরুষ ততই তিনি নায়কোচিত। বিশাল মোটা চেহারা, অতিকায় ভুঁড়ির অধিকারী মানুষটি হলেন ইথিওপিয়ার বোদি জনজাতির সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ।
আর সেই চেহারাটা পেতে এখানকার যুবকরা ৬ মাসের জন্য একটি কুঁড়ে ঘরে একা থাকেন। এই ৬ মাসে কোনও কায়িক পরিশ্রম তাঁরা করেননা। তাঁদের খাবার পৌঁছে দেন ওই সম্প্রদায়ের মহিলারা। তবে খাবারেও থাকে এক হতবাক করা চমক।
বোদিরা বাৎসরিক একটি উৎসব পালন করেন। নাম কাইল। এই কাইল উৎসবেই সবচেয়ে স্থূলকায় যুবককে বেছে নেওয়া হয়। এই উৎসবের ঠিক ৬ মাস আগে এই সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পরিবারের ১ জন করে যুবক কুঁড়েঘরে থাকতে শুরু করেন।
সেখানে কেবল শোয়া বসার মধ্যেই দিন কাটান তাঁরা। বাড়াতে থাকেন ওজন। এই সময় ওজন বাড়াতে গবাদি পশুর দেহ থেকে নেওয়া রক্তও পান করেন তাঁরা। যদিও গবাদি পশুর জীবন কেড়ে রক্ত সংগ্রহ করা হয়না।
কেবল দেহে ফুটো করে রক্ত সংগ্রহ করে সেই ফুটো আবার মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া হয়। তারপর সেই রক্ত এই মোটা হতে থাকা যুবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে মেদ বাড়বে এমন খাবারই তাঁদের পরিবেশন করা হয়।
উৎসবের দিন ৬ মাস ধকে কুঁড়েতে এভাবে থাকা যুবকরা জড়ো হন। নির্বাচকরা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তাঁদের মধ্যে থেকে সবচেয়ে স্থূল মানুষটিকে বেছে নেন।
কোনও পুরস্কার, আর্থিক পুরস্কার নেই। আছে কেবল সম্মান। তাঁদের সমাজে হিরো হয়ে থাকার সম্মান। যা তারিয়ে উপভোগ করেন স্থূলকায় পুরুষরা। বোদি সমাজের মহিলারাও স্থূলকায় পুরুষকেই পছন্দ করেন।












