মাত্র ৩০ বছরেই বদলে যাচ্ছে পেঁচার গায়ের রং, কারণ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা
প্রকৃতির নিয়মে কীভাবে বদলে যাচ্ছে পরিচিত এক পাখির চেহারা, দীর্ঘ গবেষণায় তারই বিস্ময়কর ইঙ্গিত পেলেন বিজ্ঞানীরা।
পেঁচার গায়ের রংও যে বদলে যেতে পারে, তাও আবার মাত্র ৩০ বছরের মধ্যে, এমন কথা শুনলে অবাক হওয়ারই কথা। কিন্তু একদল বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণায় ঠিক এমনই ছবি উঠে এসেছে।
সুইৎজারল্যান্ডে বসবাসকারী বার্ন আউল বা লক্ষ্মীপেঁচাদের কারও বুক প্রায় সাদা, কারও পালকে লালচে বাদামি আভা। আবার কারও বুকে কালো ছোপ খুব কম। কারও অনেক বেশি। এই স্বাভাবিক পার্থক্যের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এক আশ্চর্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
সুইৎজারল্যান্ডের লুসান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ৩ হাজার ১০২টি পেঁচার সম্পূর্ণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন প্রায় ৩ দশক ধরে সংগ্রহ করা পাখিগুলির গায়ের রং ও ছোপের তথ্য। দেখা গিয়েছে সময়ের সঙ্গে ওই অঞ্চলের পেঁচাদের মধ্যে লালচে বাদামি পালক এবং বেশি কালো ছোপযুক্ত পাখির উপস্থিতি বেড়েছে।
এমনটা কি নিছক ঘটনাচক্রে হয়েছে? উত্তর খুঁজতে কম্পিউটারে জিনগত পরিবর্তনের বিভিন্ন সম্ভাবনা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। তাতে দেখা যায় অন্তত ১টি গুরুত্বপূর্ণ জিনগত পরিবর্তন শুধু দৈবক্রম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছেনা। সেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব থাকার প্রমাণ মিলেছে।
তবে কেন এমন হচ্ছে সে রহস্য এখনও কাটেনি। খাবারের ধরন বদলেছে না পরিবেশের অন্য কোনও চাপ কাজ করছে তা নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। এমনকি পালকের রংই প্রকৃতির কাছে বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে কি না সেটাও স্পষ্ট নয়।
গবেষণাটি সব দেশের সব পেঁচা নিয়ে নয়। সুইৎজারল্যান্ডের নির্দিষ্ট পেঁচাগোষ্ঠী নিয়ে। তবে প্রায় ১০ প্রজন্মের মধ্যেই যে বন্যপ্রাণির চেহারায় বিবর্তনের ছাপ ধরা পড়তে পারে সেটাই এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক।











