কৃষকের বাড়ির সামনে পড়ে থাকা পাথরের নিচে লুকিয়ে ছিল কয়েক হাজার বছর পুরনো ইতিহাস
এক কৃষকের বাড়ির সামনে পড়ে থাকা একটি পাথরের তলায় লুকিয়ে ছিল কয়েক হাজার বছর পুরনো ইতিহাস। খুঁড়তে বেরিয়ে এল ২ রাজমূর্তি সহ গোলাপি পাথরে বার্তা।
একজন সাধারণ গ্রামবাসী নিজের বাড়ির সামনের জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে আজব দর্শন একটি পাথর। সেটির গায়ে খোদাই করা অচেনা চিহ্ন। ওই পাথর যে হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের দরজা খুলে দেবে হয়তো তা কল্পনাও করেননি ওই ব্যক্তি।
স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব দফতরে খবর দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা। তারপর খননকার্য চলে। আর মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে ২টি বিরাট রাজমূর্তির অংশ। সেই সঙ্গে গোলাপি গ্রানাইট পাথরে খোদাই করা প্রাচীন মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক লিপি।
ঘটনাটি মিশরের নীলনদের বদ্বীপ অঞ্চলের বেহবেইত এল-হাগার গ্রামের। প্রাথমিকভাবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারনা মূর্তিগুলি প্রাচীন মিশরের শক্তিশালী ফারাও দ্বিতীয় রামেসিসের।
প্রায় ৩ হাজার বছর আগে মিশর শাসন করতেন দ্বিতীয় রামেসিস। তাঁর দীর্ঘকালের রাজত্বে দেশের নানা প্রান্তে অসংখ্য বিশাল মন্দির এবং মূর্তি নির্মিত হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া প্রথম মূর্তির মাথাটির উচ্চতা ১ দশমিক ৬ মিটার। সেটির মাথায় রয়েছে উচ্চ এবং নিম্ন মিশরের ঐক্যের প্রতীক জোড়া মুকুট।
গবেষকদের হিসাবে ভিত্তিসহ সম্পূর্ণ মূর্তিটি প্রায় সাড়ে ৮ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন হয়ে থাকতে পারে। তবে এত বড় অক্ষত মূর্তি এর আগে মেলেনি। এই উচ্চতা অবশিষ্টাংশ দেখে অনুমান করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মূর্তিটির ২ দশমিক ৪ মিটার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাছেই পাওয়া গিয়েছে গ্রানাইট পাথরে রামেসিসের রাজকীয় উপাধির উল্লেখ। যারমধ্যে রয়েছে উচ্চ এবং নিম্ন মিশরের রাজা এবং সূর্যদেব রা-এর পুত্রের উপাধির উল্লেখ।
সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে অন্যত্র। এই অঞ্চলে দেবী আইসিসের প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। তবে রামেসিসের মূর্তি সত্যিই কি এখানে ছিল? নাকি পরে অন্য কোনও এলাকা থেকে আনা হয়েছিল? এই প্রশ্নের সন্ধানে চলছে আরও অনুসন্ধান।











