পৃথিবীর চারপাশে অদ্ভুত এক ঘটনা, নতুন তথ্য পেলেন বিজ্ঞানীরা
পৃথিবীকে ঘিরে থাকা এক অদৃশ্য জগতে ঘটে চলেছে আশ্চর্য ঘটনা। নতুন গবেষণায় উঠে এল এমন কিছু তথ্য যা ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের।
পৃথিবীর চারপাশে এমন এক অদৃশ্য ঢাল রয়েছে যা না থাকলে সূর্যের দিক থেকে ছুটে আসা আধানযুক্ত কণার আঘাতে পৃথিবীর পরিবেশ অনেক বেশি বিপন্ন হত। এই ঢালের নাম ম্যাগনেটোস্ফিয়ার। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এই সুরক্ষাবলয় মোটেও শান্ত নয়। তার সীমানা জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল বিশাল ঢেউ।
সূর্য থেকে অবিরাম ধেয়ে আসে সৌরবায়ু। সেই দ্রুতগতির কণার স্রোত পৃথিবীর চৌম্বকীয় সুরক্ষাবলয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ২ অঞ্চলের গতির পার্থক্যে তৈরি হয় ঘূর্ণি। সেখানেই জন্ম নেয় কেলভিন–হেলমহোল্টজ ঢেউ। নদীর ২ বিপরীত স্রোত মিললে যেমন পাক খায় জল অনেকটা তেমনই ঘটনা ঘটছে মহাকাশে।
তবে আসল চমক অন্য জায়গায়। পৃথিবীর ২ পাশে এই ঢেউ সমান শক্তিশালী নয়। গবেষকেরা গোটা চৌম্বকীয় সুরক্ষাবলয়ের কম্পিউটার মডেল তৈরি করে দেখেছেন সৌরবায়ুর সঙ্গে আসা চৌম্বকক্ষেত্র পৃথিবীর ঢালের চারপাশে অসমভাবে জড়িয়ে যায়। কোথাও তা ঢেউকে দমিয়ে দেয়। কোথাও তুলনায় কম।
সবচেয়ে প্রবল ঢেউ তৈরি হতে পারে শীতকালীন গোলার্ধে। আবার সৌরবায়ুর চৌম্বকক্ষেত্রের দিক বদলালে ঢেউয়ের তীব্রতা ভোরের দিক থেকে সন্ধ্যার দিকে অথবা উল্টো পথে সরে যেতে পারে। এমন ঢেউ সরাসরি ধরা সহজ নয়।
এই ঢেউয়ের মাধ্যমে সৌরবায়ুর কিছু কণা ও শক্তি চৌম্বকীয় ঢালের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে মেরুজ্যোতি এবং মহাকাশের আবহাওয়ায়।
শক্তিশালী সৌরঝড়ে উপগ্রহ, যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। নতুন গবেষণা ভবিষ্যতে এই মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করার পথ খুলতে পারে।











