পৃথিবীর একটি প্রান্তে রহস্যজনকভাবে কমছিল ব্যাঙ, কারণটা জানা গেল ৫০ বছর পর
একটা সময় ব্যাঙের সংখ্যা কমছিল বিশ্বের এক প্রান্তে। কিন্তু কেন জানা ছিলনা। প্রায় ৫০ বছর পর তার উত্তর জঙ্গলে নয়, পাওয়া গেল জাদুঘরে।
৫০ বছর আগে এক গভীর অরণ্যে ঘটেছিল অদ্ভুত ঘটনা। একের পর এক ব্যাঙ যেন হঠাৎ উধাও হতে শুরু করেছিল। কোথায় গেল তারা, কেনই বা এত দ্রুত কমে গেল তাদের সংখ্যা? প্রায় ৫ দশক পর সেই রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলল এমন এক জায়গায় যেখানে কেউ হয়তো খুঁজতেই চাইতেন না।
ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্য অঞ্চলে ৭০-এর দশকের শেষদিকে নানা প্রজাতির ব্যাঙের সংখ্যা হঠাৎ কমতে থাকে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ তখন বোঝা যায়নি।
এবার স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশনের গবেষকেরা অতীতের সেই ঘটনা নতুন করে খতিয়ে দেখেছেন। তাঁরা জাদুঘরে বহু বছর ধরে রাখা ১৭টি প্রজাতির ৩৭০টিরও বেশি ব্যাঙের নমুনা পরীক্ষা করেছেন।
ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। ১৯৭৯ সালের আগের নমুনায় বিশেষ একপ্রকার ছত্রাকের সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। অথচ ৮০-র দশকের নমুনাগুলির অর্ধেকের বেশি ব্যাঙের শরীরেই পাওয়া গিয়েছে সংক্রমণের চিহ্ন।
ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম ব্যাট্রাকোকাইট্রিয়াম ডেনড্রোবাটিডিস। এটি ব্যাঙের ত্বকে আক্রমণ করে এবং প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করতে পারে। ব্যাঙের ত্বক শুধু শরীর ঢেকে রাখে না। শ্বাসপ্রশ্বাস ও শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ত্বকের সংক্রমণ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
এই তথ্য থেকে গবেষকদের ধারনা ওই অঞ্চলে ব্যাঙের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে ছত্রাকটির বড় ভূমিকা থাকতে পারে। তবে পৃথিবীর সব অঞ্চলে ব্যাঙ কমে যাওয়ার কারণ একই, এমনটা নয়।
আশ্চর্যের বিষয়, জাদুঘরের তাকের নিথর নমুনাগুলিই আজ জানিয়ে দিচ্ছে অরণ্যে বহুবছর আগে কী ঘটেছিল। অতীতের প্রাণিদের শরীর যেন হয়ে উঠেছে প্রকৃতির হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের এক নীরব দলিল।











