লোককথার সেই অদ্ভুত পেঁচাকে ঘিরে গবেষণায় সামনে এল নতুন তথ্য
বহু বছর ধরে প্রচলিত এক লোককথা। এবার বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সামনে এল এমন কিছু তথ্য যা নতুন করে কৌতূহল বাড়িয়েছে।
লোককথায় শোনা যায় এক অদ্ভুত প্রাণির কথা। দেখতে অনেকটা পেঁচার মত। তবে সাধারণ পেঁচার চেয়ে অনেকটাই বড়। তাকে ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই পেঁচার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে সৌভাগ্য আসে। আর তাকে অসম্মান করলে নেমে আসতে পারে বিপদ।
এতদিন এসব নিছক লোককথা বলেই মনে করা হত। কিন্তু বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই রহস্যময় প্রাণিটিকে। ক্যারিবিয়ান সাগরের বাহামা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের কাছে এই প্রাণি চিকচার্নি নামে পরিচিত।
আমেরিকার ফ্লোরিডা মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষকেরা জানিয়েছেন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একসময় বাস করত বিশাল আকারের এক ধরনের পেঁচা। যার উচ্চতা ছিল প্রায় ১ মিটার। টাইটো পোলেনস নামে পরিচিত এই বিলুপ্ত পেঁচার জীবাশ্ম পাওয়া গেছে বাহামা ও কিউবায়।
গবেষকদের ধারনা প্রাচীনকালে মানুষ এই বিশাল পেঁচাদের দেখে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই চিকচার্নির লোককথার জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। যদিও এ ২টির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত পেঁচার নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ২০ লক্ষ বছরেরও কম সময় আগে ইউরোপের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে পেঁচাদের পূর্বপুরুষরা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে তারা ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকার মূল ভূখণ্ড এবং গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে।
একসময় ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অন্তত ৯টি এমন পেঁচার প্রজাতি ছিল। সেগুলি এখন বিলুপ্ত। খাদ্যের অভাব তাদের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।











