National

৬০০ বছর আগে বিদেশ থেকে ভারতে আসা খুরসানি তেঁতুল পেল অনন্য সম্মান

এবার এক অনন্য সম্মানের অধিকারী হল খুরসানি তেঁতুল। এই বিশেষ স্বাদের তেঁতুলের কদর আগেও ছিল। নতুন সম্মানের পর তার বিক্রিতে জোয়ার আসার সম্ভাবনা।

তেঁতুলের কদর তো ভারতে রয়েছেই। তেঁতুলের খাদ্যগুণও অনেক। তেঁতুলের আবার প্রকারভেদ রয়েছে। খুরসানি তেঁতুল হল তার একটি প্রকার। যাতে ভরপুর ভিটামিন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে। তবে তা এতদিন সীমাবদ্ধ ছিল একটি বিশেষ জায়গায়।

সেখানকার মানুষের মধ্যে এই তেঁতুল জনপ্রিয়ও ছিল। এই তেঁতুল যেমন এতদিন রাস্তার ধারে নিয়ে বসে বিক্রি করতেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন, তেমনই তা দিয়ে তৈরি নানা সুস্বাদু খাবারও বিক্রি হত।

খুরসানি তেঁতুলের ইতিহাস কিন্তু বেশ প্রাচীন। ৬০০ বছর আগে ভারতকে আসা আফগান ও আরব ব্যবসায়ীদের হাত ধরে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে বাওবাব গাছ।

এই বাওবাব গাছ সাধারণ তেঁতুল গাছের মত দেখতে নয়। এর গুঁড়ি থেকে শাখা প্রশাখা বেশ মোটা। তাতে ভালই জল ধরা থাকে। দেখতেও একটু অন্যরকম। তাতেই হয় এই তেঁতুল।

এই খুরসানি তেঁতুলের জন্য বিখ্যাত মধ্যপ্রদেশের মান্ডু। যেখানকার আদিবাসীদের মধ্যে এই তেঁতুল অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই তেঁতুল শুধু তাঁদের রসনা তৃপ্তই করেনি, ওষুধের মত কাজে লেগেছে। তাঁরাই এই তেঁতুল নিয়ে রাস্তার ধারে বিক্রি করেন। সেই খুরসানি তেঁতুল এবার পেল জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই ট্যাগ।

খুরসানি তেঁতুল কেবল একটি অঞ্চল বা রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তার জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ল। তাছাড়া জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর এই তেঁতুলকে ঘিরে পর্যটকদের মধ্যেও কৌতূহল বাড়বে। যা এর বিক্রিকে বাড়াতে সাহায্য করবে।

এই খুরসানি তেঁতুল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত মানুষজন তাই জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর এখন এই তেঁতুল বিক্রি করে অধিক মুনাফার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

Show Full Article