National

আধুনিক বাসের দরজা বন্ধ করে ৩০ যাত্রীকে আটকে রাখল একটা দেশলাইকাঠি

সবে পিচ ঢালা রাস্তায় তার সফর শুরু করেছে এই বাস। ২ দিন হল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। তার পরেই ৩০ জন যাত্রী দীর্ঘক্ষণ আটকে রইলেন বাসের মধ্যে।

এমন বাস সবে পথে নেমেছে। আধুনিক প্রযুক্তির বাস। ই-বাস পরিষেবা চালু হয়েছে গোলাপি শহরে। এমন আধুনিক ও আরামদায়ক বাসে যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে খুশি দৈনন্দিন যাত্রীরাও। ব্যস্ত অফিস টাইমে গন্তব্যে পৌঁছতে তাঁরা উঠে বসেছিলেন এমনই একটি ইলেকট্রিক স্মার্ট বাসে।

কিন্তু তাঁরা তখনও জানতেন না তাঁদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। জয়পুরের কুম্ভ মার্গের কাছে বাসটি একসময় দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের অবাক করে বাসের মধ্যে আপৎকালীন সাইরেন বাজতে শুরু করে।

আর সাইরেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাসের দরজাগুলি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকজন যাত্রী জোর করে দরজা খুলে বার হওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে কোনও ফল হয়নি। বরং সাইরেনটা বাজতেই থাকে। বাসের চালকও হতভম্ব হয়ে যান। তিনিও বুঝতে পারেননা কি হয়েছে।

বাসের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। কেন সাইরেন বেজে চলেছে, কেন দরজা খুলছে না, কীভাবে তাঁরা এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবেন তা বুঝে উঠতে না পেরে যাত্রীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অবশেষে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কাটার পর এক যাত্রী কোনওভাবে দরজার এয়ার প্রেশার বার করে দিয়ে দরজা খুলতে সমর্থ হন। অবশেষে বন্ধ বাস থেকে মুক্তি পেয়ে দ্রুত যাত্রীরা বাস থেকে নেমে আসেন। এক দুঃস্বপ্নের মত মনে হতে থাকে তাঁদের ওই বন্দি হয়ে পড়া।

ঘটনার পর মেকানিক নিয়ে এসে যখন এমনটা ঘটার কারণ খতিয়ে দেখা হয় তখন যা নজর কাড়ে তা বিস্মিত করেছে সকলকে। এত উন্নত প্রযুক্তির বাসের এই অবস্থার কারণ হিসাবে পাওয়া যায় একটি দেশলাইকাঠিকে।

দেখা যায় যাত্রীদের কথা ভেবেই বাসে থাকা প্যানিক এসওএস বোতামটির গায়ে কেউ একটি দেশলাই কাঠি গুঁজে দিয়েছিলেন। আর তাতেই সক্রিয় হয়ে যায় বাসের এমার্জেন্সি সিস্টেম। বাজতে শুরু করে সাইরেন। দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় বাসের সব দরজা। যা ওই ৩০ জন যাত্রীর জন্য ভয়ংকর আতঙ্কের কারণ হয়। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article